ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা রেসে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিয়েছে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে মানচেস্টার সিটির দানবীয় জয়। চেলসিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে পেপ গার্দিয়োলার শিষ্যরা আবারও নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করেছে এবং আর্সেনালের সঙ্গে ব্যবধানকে মাত্র ছয় পয়েন্টে নামিয়ে এনেছে।
ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল শান্ত ও যতটা না প্রত্যাশিত, ততটাই রক্ষণকেন্দ্রিক। দুই দলের খেলোয়াড়রাই প্রথম ৪৫ মিনিট জুড়েই রক্ষণ সামলায় বেশি মন দেন, ফলে গ্যালারিতে থাকা দর্শকদের জন্য খেলাটি তেমন প্রাণবন্ত ছিল না।
বিরতির পর মাঠে একেবারেই অন্য সিটি দেখা গেল। দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই চেলসির ওপর নিরবচ্ছিন্ন চাপ তৈরি করে তারা। এ চাপের ফল आइতে বেশি দেরি লাগেনি—৫০তম মিনিটে দলের তরুণ তারকা নিকো ও’রাইলি নিখুঁত ফিনিশিং করে প্রথম গোলটি করেন এবং চেলসির প্রতিরক্ষা ভেদ করে দলের মনোবল বাড়িয়ে দেন।
ও’রাইলির সেই গোলের পর থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ সিটির হাতে চলে আসে। মাত্র ১৭ মিনিটের এক সমঅসরে ঐ সময়ে তারা আরও দুইটি গোল করে চেলসিকে চরমভাবে ধাক্কা দেয়। নিজের ক্লাবের হয়ে প্রথম লিগ গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মার্ক গেহি। এরপর চেলসির মিডফিল্ডার মোয়াসেস কাইসেদোর একটি বিভ্রান্তিকর পাসের সুযোগ নিয়ে জেরেমি ডোকু বলটি জালে জড়িয়ে দলকে ৩-০ আনতি নিরাপদ অবস্থানে নিয়ে যান।
চেলসি এসব আক্রমণ সামলে উঠতে না পেরে কার্যত প্রতিরোধ ক্ষমতা হারায় এবং ম্যাচের বাকি সময়ে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সাড়া দিতে পারেনি।
এই পরাজয় চেলসির চ্যাম্পিয়ন্স লিগ বাছাইয়ের স্বপ্নকে বরং অনিশ্চিত করে তুলেছে—৩২ খেলা শেষে তাদের সংগ্রহ ৪৮ পয়েন্ট এবং স্থান টেবিলের ছয়। অন্যদিকে আর্সেনাল ৩২ ম্যাচে ৭০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে, আর এক ম্যাচ কম খেলে ৬৪ পয়েন্টে আছে ম্যানচেস্টার সিটি, ফলে শিরোপা দৌড় এখন আরও তীব্র হয়েছে।
আগামী সপ্তাহে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে শীর্ষ দুই দল আর্সেনাল ও ম্যানচেস্টার সিটি—বিশ্লেষকরা মনে করছেন সেই ম্যাচই অনেকাংশে নির্ধারণ করে দেবে ২০২৫-২৬ মৌসুমের ট্রফি কোথায় যাবে। সিটি যদি সেখানে জয় পায়, তবে তারা আর্সেনালকে পিছনে ফেলতে এক বড় সম্ভাবনাই তৈরি করবে। সব মিলিয়ে প্রিমিয়ার লিগের শেষপর্যায় এখন টানটান উত্তেজনায় ভরা।