পারস্য উপসাগরীয় এলাকায় মার্কিন সামরিক তৎপরতা বাড়ানো এবং ইরানের বন্দরগুলো অবরোধের সিদ্ধান্তকে কড়া সমালোচনা করেছে চীন। বেইজিং এই পদক্ষেপকে পুনরায় “বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ” আখ্যা দিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন এক সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলনে ওয়াশিংটনের কর্মপন্থাকে কঠোরভাবে নির্মম মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি কেবল আঞ্চলিক উত্তেজনাই বাড়াবে না, বরং পূর্বের নাজুক যুদ্ধবিরতি ও স্থিতিশীলতাকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে। “যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের নিরাপত্তাকে আরো ঝুঁকির মুখে ফেলেছে,” তিনি যোগ করেন।
গুয়ো আরও বলেছিলেন, এমন ধরনের প্রকোপ আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়াবে এবং আন্তর্জাতিক নৌপথে বাণিজ্য-বিধ্বস্ততা সৃষ্টি করতে পারে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে দায়িত্বশীল কূটনীতিক আচরণ অবলম্বনের আহ্বান জানান।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সোমবার (১৩ এপ্রিল) থেকে মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালিতে বিশেষ সামরিক অবরোধ কার্যকর করা শুরু করে। সেই বিধিনিষেধের মধ্যেও মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) একটি চীনা তেলের ট্যাংকার ওই জলপথ পেরিয়ে যেতে সক্ষম হয়। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মেরিন ট্রাফিক এবং কেপলার থেকে প্রাপ্ত তথ্যে এ খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেলবাহী পথ; এখানকার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে—এই উদ্বেগটিই বেইজিংয়ের তৎপর প্রতিক্রিয়ার পেছনে কাজ করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। আল জাজিরা এই প্রতিবেদনের সূত্র হিসেবে কৃতজ্ঞতা তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।