বুধবার, ১৫ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমতলীতে ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে দুইজন নিহত, তিনজন গুরুতর আহত

পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের আমতলী অংশে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাত সাড়ে সাতটার দিকে ট্রাক ও একটি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত ও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

নিহতরা হলেন মিরাজুল ইসলাম শাওন (২০) ও ব্যবসায়ী বেল্লাল মুসুল্লী (৩৫)। আহতদের মধ্যে আছেন অটোচালক ফাহাদ (২১), জসিম সিকদার (৪৫) ও তুহিন (২২)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহিষকাটা থেকে চারজন যাত্রী নিয়ে আমতলীর দিকে যাচ্ছিল একটি অটোরিকশা। আমতলী ফায়ার সার্ভিসের সামনে পৌছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী ট্রাক অটোরিকশাটিকে চাপা দিয়ে যায়। এতে অটোরিকশায় থাকা সব যাত্রী গুরতরভাবে আহত হন।

স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে duty Arzt ডা. পপি হালদার প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠান।

কর্তব্যরত চিকিৎসক ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বরিশালে নেওয়ার পথে রাত সাড়ে নয়টার দিকে মিরাজুল ইসলাম শাওন ও বেল্লাল মুসুল্লীর মৃত্যু হয়।

নিহত বেল্লাল মুসুল্লীর বাড়ি পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মাইঠভাঙ্গা গ্রামে; তিনি হাসেম মুসুল্লীর ছেলে। অপর নিহত শাওনের বাড়ি আমতলী উপজেলার উত্তর সোনাখালী গ্রামে; তিনি গাজী শাহজাদের ছেলে।

ঘাতক ট্রাকটি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্ঠা করলে স্থানীয়রা বাদুরা বাজার এলাকায় তাকে আটক করেন এবং পরে পুলিশ ট্রাকটি জব্দ করে।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. পপি হালদার জানান, আহতদের অবস্থাও ভয়াবহ হওয়ায় দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল পাঠানো হয়েছিল। আমতলী থানার ওসি (তদন্ত) মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, বরিশালে নেওয়ার পথে দুইজন মারা গেছেন এবং ঘাতক ট্রাকটি আটক করা হয়েছে; এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা ও তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে।

ঘটনাস্থল ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের দাবি, দুর্ঘটনার কারণ দ্রুতগামী ট্রাকের দায়িত্বজ্ঞানহীন চলাচল। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসা ব্যবস্থা নেওয়ায় আরও প্রাণহানি রোধ করা সম্ভব হয়েছে বলে তারা জানান।

পোস্টটি শেয়ার করুন