বৃহস্পতিবার, ১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেজবাউর রহমান সুমনের রইদ দেশের প্রেক্ষাগৃহে — মুক্তি ঈদুল আজহায়

‘হাওয়া’ সিনেমার বিশাল সাফল্যের পর প্রায় চার বছরের বিরতি কাটিয়ে ফের তিনি—নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন নতুন ছবি রইদ নিয়ে ফিরে এসেছেন। নির্মাতা নিশ্চিত করেছেন, আসন্ন ঈদুল আজহার সময় ছবিটি দেশের প্রেক্ষাগৃহে একযোগে মুক্তি পাবে। আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রশংসা কুড়ানো রইদ এবার দেশীয় দর্শকদের জন্যও সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

প্রাথমিকভাবে সুমন সিনেমাটি উৎসবের ভিড় এড়িয়ে একটু শীতল ও নিরিবিলি সময়ে মুক্তির পরিকল্পনা করেছিলেন। তাঁর ধারণা ছিলো উৎসবের আনাগোনায় হারিয়ে না গিয়ে শান্ত পরিবেশে দর্শকরা ছবির গল্প ও দৃশ্যের সূক্ষ্মতা আরও ভালোভাবে অনুধাবন করতে পারবেন। তবে সময়সূচি, প্রচার-কৌশল এবং ব্যবসায়িক নানা বিবেচনায় পরিকল্পনা বদলাতে হয়। বিশেষত আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দীর্ঘতর বিলম্ব করলে ছবির প্রচারণা ও বাণিজ্যিক সুযোগে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা হওয়ায় এবার ঈদুল আজহার বড় উৎসবকে মুক্তির সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তিনি।

রইদ ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে খাশি সুনাম অর্জন করেছে। বিশ্বের মর্যাদাপূর্ণ উৎসব ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারড্যামের মেইন প্রতিযোগিতা বিভাগ টাইগার কম্পিটিশনে ছবিটি অফিশিয়ালি নির্বাচিত হয়ে একটি গৌরবজনক অবদান রেখেছে। ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান এবং নাজিফা তুষি; পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যাবে গাজী রাকায়েত ও আহসাবুল ইয়ামিন রিয়াদকে। শক্তিশালী এই অভিনয় সংমিশ্রণ রইদকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলবে বলে চলচ্চিত্র মহলে প্রত্যাশা রয়েছে।

ফিল্মটির প্রচারে সম্প্রতি প্রকাশ পেয়েছে প্রথম গান রইদে আইলা গা জুড়াইতে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং শ্রোতামহলে ইতোমধ্যেই ভালো সাড়া ফেলেছে। সহজিয়া ব্যান্ডের রাজীব আহমেদ রাজুর কথা ও সুরে গানটির সংগীত পরিচালনা করেছেন রাশীদ শরীফ শোয়েব। নির্মাতা জানান, ছবির দৃশ্যধারণ শুরুর প্রায় এক বছর আগ থেকেই গানটির কাজ শুরু হয়েছিল এবং তিনি এটিকে রইদ ছবি জার্নির একটি কাব্যিক উদ্বোধন হিসেবে দেখেন।

হাওয়া’র জাদুকে পেছনে রেখে রইদ কতটা নতুন সিনেম্যাটিক অভিজ্ঞতা দিতে পারবে, সেটাই এখন দর্শক ও সমালোচকদের প্রধান আগ্রহ। নির্মাতা এবং টিমের প্রচেষ্টায় এ বছর ঈদুল আজহার ভিড়ে রইদ যদি ঠিকঠাক প্রতিক্রিয়া পায়, তাহলে এটি খুলে দেবে বাংলা সিনেমার আরেকটি কথ্য অধ্যায়—এমনই প্রত্যাশা চলছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন