সুনামগঞ্জের চার উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড় ও এর পরবর্তী সময়ে বজ্রপাতে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনাগুলো বেশিরভাগই হাওর ও মাঠে কাজ করার সময় ঘটে। স্থানীয় প্রশাসন এই মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ধর্মপাশায় দুইজন নিহত হয়েছেন—হবিবুর রহমান (২২) ও রহমত উল্লাহ (১৩)। হবিবুর পাইকুরাটি ইউনিয়নের বড়ইহাটি গ্রামের ফজলু রহমানের ছেলে এবং তিনি বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। রহমত উল্লাহ জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতিপুর গ্রামের জয়নাল হকের ছেলে। এই দুইজন পৃথক সময়ে বজ্রপাতে নিহত হন।
তাহিরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামের আবু বকরের ছেলে আবুল কালাম ওরফে কালা মিয়া (২৮) জামলাবাজ গ্রামে একটি হাঁসের খামারের সামনে বজ্রপাতে নিহত হন। তিনি ওই খামারে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। এ ঘটনায় নূর মোহাম্মদ (২৪) নামে আরেকজন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং স্থানীয়রা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।
জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চাঁনপুর (গজারিয়া হাটি) গ্রামে পাগনার হাওরে কাজ করার সময় বজ্রপাতে নুরুজ্জামান নামে একজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়দের দ্রুত উদ্ধার করলে তাকে জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নুরুজ্জামানকে মৃত ঘোষণা করেন; তার চাচাতো ভাইও গুরুতর আহত রয়েছে।
দিরাই উপজেলার চরনাচর ইউনিয়নের পেরুয়া গ্রামের লিটন মিয়া হাওরে ধান কাটা চলাকালে বজ্রপাতে নিহত হন।
স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারীরা বলেছে, এ ঘটনাগুলোতে মোট পাঁচ জন প্রাণ হারিয়েছেন। স্থানীয়রা ও কর্তৃপক্ষ ঝড়ের সময় বাইরে কাজ না করার, উচু স্থানে আশ্রয় নেওয়ার এবং বজ্রপাতের সময় নিরাপদ স্থানে থাকা পরামর্শ দিচ্ছেন।