মঙ্গলবার, ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চীনের সঙ্গে বিনিয়োগ দৃঢ় করতে বিডাকে বিসিসিসিআই’র ৯ সুপারিশ

ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও মজবুত করতে বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিসিআই) বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (বিডা) নয়টি প্রস্তাব দিয়েছে। মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটির কার্যালয়ে আয়োজিত বিশেষ বৈঠকে এই সুপারিশগুলো বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনের কাছে তুলে ধরা হয়।

বিসিসিসিআই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন তাদের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এ জেড এম আজিজুর রহমান। তিনি দুই দেশের যৌথ বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি শিল্পের গতিস্বরূপ জ্বালানি সরবরাহের নিরবচ্ছিন্নতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জামিলুর রহমান বলেন, বর্তমানে এলএনজি আমদানি শর্তগুলো মূলত সরকারি পর্যায়ে সীমাবদ্ধ; তাই দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে বেসরকারি উদ্যোক্তাদেরও এলএনজি আমদানির সুযোগ দেয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান এই প্রস্তাবগুলো ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বাস দেন এবং জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে—বিদ্যুত্‍ উৎপাদন বাড়ানো ও অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার মত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, বলে জানান তিনি। তিনি যোগ করেন, উপযুক্ত পদক্ষেপ নেয়া হলে বেসরকারি এলএনজি আমদানিও দেশের চলমান জ্বালানি সমস্যার সমাধানে সহায়ক হবে।

চীনা উদ্যোক্তাদের পক্ষে ভাইস প্রেসিডেন্ট চাও চংচং প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক নথিপত্র যাচাইকরণের জটিলতাকে উদ্বেগ হিসেবে তুলে ধরেন। বৈঠকে অন্য সদস্যরাও ব্যবসা পরিচালনায় যে নানান প্রতিবন্ধকতা আছে তা উপস্থাপন করেন। বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা জোরদার করা, প্রযুক্তিনির্ভর নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি এবং প্রশাসনিক ও পরিচালনাগত দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর ভিত্তি করেই নিয়োজিত ৯ দফা সুপারিশের ওপর বিস্তারিত আলোচনা হয়।

উক্ত বৈঠকে বিডার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিসিসিসিআই-এর নির্বাহী পরিচালক আবু তাহেরসহ সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, যদি এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয় তবে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে এবং বিনিয়োগ পরিবেশ আরও অনুকূল হবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন