সোমবার, ২৭শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একনেকে ১৩ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকার ১৪ প্রকল্প অনুমোদন

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মোট ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ হাজার ৪৪৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা। রোববার (২৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে পাঁচটি হলো নতুন, পাঁচটি সংশোধিত এবং চারটি প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য আবেদন অনুমোদন পেয়েছে। এই প্রকল্পগুলো দেশের যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রকল্পগুলোর অর্থায়নের জন্য সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৮ হাজার ৮৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, বৈদেশিক ঋণ থেকে ৫ হাজার ৩৪০ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নিজস্ব অর্থায়ন থেকে আরও ১৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা খরচ হবে। সভায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পরিকল্পনামন্ত্রীসহ অন্যান্য মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। এ বিশাল বাজেটের প্রকল্পগুলো দেশের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন সভায়।

বিশেষ বিবেচনায় আসায়, ঢাকা শহরে জরুরি পানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, ময়মনসিংহ বিভাগে পাঁচটি জলবায়ু সহনশীল সেতুর নির্মাণ, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলায় দ্বিতীয় পর্যায়ের সীমান্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্পগুলো এখনও গুরুত্ব পাচ্ছে। এছাড়া ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, মধুখালী থেকে মাগুরা পর্যন্ত ব্রডগেজ রেলপথ, বরিশাল-ভোলা-লক্ষ্মীপুর জাতীয় মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পগুলোও এই তালিকায় রয়েছে। সামাজিক খাতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের জন্য নগর এলাকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে।

এছাড়াও, সভায় তিনটি নির্দিষ্ট সড়ক প্রকল্পের মেয়াদ পাঁচ বার বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। এর কারণ অনুসন্ধানে মাতৃপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পাশাপাশি, ৫০ কোটি টাকার কম খরচের ৩৩টি ছোট প্রকল্পের বিষয়েও আগেই পরিকল্পনামন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন, যা এ সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে প্রকল্পগুলো সময়মতো এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়।

নীতিনির্ধারকদের মনে করেন, এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগ অবকাঠামো এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলের রেলওয়ে রক্ষণাবেক্ষণ ও কাস্টমস আধুনিকীকরণ প্রকল্পসমূহ দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন গতির উদ্ভব করবে। আশা করা হচ্ছে, এই বিশাল বিনিয়োগ দেশের প্রান্তিক জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত ভিত্তি শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন