প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেছেন যে সরকারের মতো প্রশাসনের কোনো পদই চিরস্থায়ী নয়। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি জনপ্রশাসন পদ গুরুত্বপূর্ণ এবং অনিবার্য। যে কোন সময় দেশের কোথাও কোনো কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করতে প্রস্তুত থাকতে হবে। রোববার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। এই সম্মেলনে বিভিন্ন প্রকল্প ও পরিকল্পনা তুলে ধরে সরকার বাসাবাজার সিন্ডিকেট দমন, দুর্নীতির সঙ্গে জিরো টলারেন্স, ডিজিটাল ও স্মার্ট প্রশাসন চালু, জনসেবার মানোন্নয়ন ও সেবা প্রদানসহ বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী জোর দেন যে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন পরিষ্কার ও সুষ্ঠু ছিল, যেখানে জনগণের রায় স্বচ্ছভাবে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জনপ্রশাসনে পদোন্নতি বা পোস্টিং পেতে হলে পেশাদারিত্ব, সততা ও দক্ষতা অপরিহার্য। কর্মচারীদের জন্য তাঁর বিশেষ আহ্বান হলো, দেশের যেকোনো স্থানে, কোনও সময় দায়িত্ব পালন করতে নিজেদের প্রস্তুত রাখা। তিনি বলেন, শুধুমাত্র পদের জন্য পেশাদারিত্বের সঙ্গে আপোস করলে তা সাময়িক লাভ হলেও মোটের ওপর এটি প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও দক্ষতা নষ্ট করে। ফ্যাসিবাদী শাসনের সময় দুর্নীতি ও লুটপাট রাষ্ট্র ও জনগণকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল, বলে উল্লেখ করেন তিনি। বর্তমান সরকার ৩০ ট্রিলিয়ন টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে কাজ শুরু করেছে, এবং জনগণের প্রত্যাশা যুক্তিসঙ্গত। যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বের অধিকাংশ দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে আমরা পরিস্থিতির মোকাবিলা করে চলছি। প্রশাসনের প্রতিটি পদই সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন এবং বলেন, সব কর্মকর্তা যেন মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ছেড়া হয়েছে, যেখানে উল্লেখ রয়েছে বাজারের সিন্ডিকেট দমন, কৃষি খাল খনন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, ডিজিটাল ও স্মার্ট প্রশাসন, সামাজিক নিরাপত্তা, মোবাইল কোর্টের কার্যকারিতা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা, হয়রানি বন্ধ, স্থানীয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় ঐক্য। সম্মেলনে বিভিন্ন মন্ত্রী, উপদেষ্টা, মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ ও অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। এই চার দিনের সমাবেশে মোট ৩৪টি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ৫৬টি মন্ত্রণালয় থেকে ৫৯৮টি প্রস্তাব নেওয়া হবে। শেষ হবে ৬ মে।