বুধবার, ৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৩শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অন্তর্বর্তী সরকারের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে ইপিআই প্রোগ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, আগে যে অন্তর্বর্তী সরকার ছিল, তাদের কিছু ভুল সিদ্ধান্তের কারণে আমাদের সফল ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইপিআই (ইমিউজ likeন প্রোগ্রাম) কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবে আশার কথা হলো, বর্তমান সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের উপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন কারণ এটি শিশুদের জীবন রক্ষায় সরাসরি ভূমিকা পালন করে।

বুধবার (৬ মে) রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউনিসেফের এক আংশিক ভ্যাকসিন সঞ্চয়ের মধ্যে দিয়ে অতিরিক্ত ১৫ লাখ ডোজ এমআর এবং ৯০,০০০ ভায়াল টিডি ভ্যাকসিন সংগ্রহের সময় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি জানান, ইপিআই কর্মসূচি ১৯৭৯ সাল থেকে শুরু হয়ে শিশু ও নারীদের স্বাস্থ্যের রক্ষায় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে ১২টি জনগণের জন্য প্রতিরোধযোগ্য সংক্রামক রোগে রোধ ঘটানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অনুযায়ী, এই কর্মসূচি এখন বিশ্বে অন্যতম সফল প্রকল্প হিসেবে পরিচিত এবং গ্যাভি বাংলাদেশকে বিশেষ ‘Vaccine Hero’ খেতাব দিয়েছে।

একটি যৌথ গবেষণায় জানা গেছে, এই কর্মসূচি পরিচালনা করছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ইউনিসেফ। প্রতি বছর ইপিআই প্রোগ্রাম অন্তত এক লাখ শিশুর মৃত্যু ঝুঁকি কমায় এবং প্রায় ৫০ লাখের বেশি রোগপ্রতিরোধে সাহায্য করে।

মন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে ভ্যাকসিন কেনার পরিকল্পনা ছিল, যা তিনি দায়িত্ব গ্রহণের দুই সপ্তাহের মধ্যে বাতিল করে দেন। এরপর তিনি ইউনিসেফকে ভ্যাকসিন সরবরাহের জন্য অনুরোধ জানান এবং দ্রুত সরকার প্রয়োজনীয় অংকের অর্থ ছাড় করে।

টিকাদান কর্মসূচির ব্যাপারে তিনি বলেন, নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমের পাশাপাশি রোগের প্রাদুর্ভাবের পরিস্থিতিতে বিশেষ ক্যাম্পেইন চালু করা হয়। বর্তমানে হাম ও রুবেলা রোগের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে ‘হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬’ আয়োজন করা হচ্ছে। এই ক্যাম্পেইন আগস্টের পরিবর্তে এপ্রিলের ৫ তারিখ থেকে শুরু করা হচ্ছে। এ উদ্যোগে বিশেষ ধন্যবাদ জানান রানা ফ্লাওয়ার্সকে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার ইতিমধ্যে ইউনিসেফকে ৮৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ দিয়েছে, যার মাধ্যমে ৯৫ মিলিয়ন ডোজ বিভিন্ন ভ্যাকসিন সংগ্রহের কাজ চলেছে। টাকা পাওয়ার পর ৯ ও ১৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বাধ্যতামূলক ভ্যাকসিন সরবরাহের কাজ শুরু হয়, এবং ৬ মে ইউনিসেফ অতিরিক্ত ১৫ লাখ ডোজ এমআর ও ভায়াল টিডি ভ্যাকসিন পাঠিয়েছে। এদিকে, আগামী ১০ মে-এর মধ্যে আরও ১.৮ কোটি ডোজ বিভিন্ন ভ্যাকসিন দেশজুড়ে পৌঁছানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, ইউনিসেফ ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করতে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তাদের বৈশ্বিক সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে, পেছনে থাকা ৩৫ মিলিয়ন ডলারের আরও ভ্যাকসিনও তারা সংগ্রহ করছে। ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য ১৫ মাসের ভ্যাকসিনের ব্যাচলাইন প্রস্তুতি নিয়েছে, যার মধ্যে তিন মাসের জন্য বাফার স্টকও থাকবে। এই প্রক্রিয়াও ইউনিসেফের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে দেশের কাছে টিসিভি ও এইচপিভি ভ্যাকসিনের দুই বছরের ব্যবধানে প্রয়োজনীয় স্টক মজুদ রয়েছে। নতুন এই সরবরাহের ফলে আগামী ৮ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত অন্যান্য ভ্যাকসিনের সংকট হবে না বলে আশা করা হচ্ছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন