পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরুর আগেই বাংলাদেশ দলের জন্য অপেক্ষাকৃত বড় ধাক্কা লাগেছে। মিরপুরে ফিল্ডিং করার সময় বুকের হাড়ে গুরুতর চোট লাগায় সাদমান ইসলাম সিলেট টেস্ট থেকে ছিটকে গেছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাদমানের অনাকাঙ্ক্ষিত শুরুর বিদায়ের খবর নিশ্চিত করেছে। দলের ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, সাদমান এখন তীব্র ব্যথায় ভুগছেন এবং পুরোপুরি সেরে উঠতে সময় প্রয়োজন হবে।
সাদমানের জায়গায় স্কোয়াডে ডাক পেয়েছেন ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ ছন্দে থাকা ব্যাটসম্যান জাকির হাসান। আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ততটা সফল নন, তবু ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ধারাবাহিক সেঞ্চুরি ও হাফসেঞ্চুরি করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। দল এখন জাকিরকে নিয়েও বিকল্প সাজানোর পরিকল্পনা করছে।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেটও এখন আলোচনা হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক বৃষ্টির কারণে পিচ ও আউটফিল্ডে ঘাসের পরিমাণ অনেক বেড়ে গিয়েছে — সবুজে মোড়া পিচ পেসারদের স্বর্গরাজ্যের মতো আচরণ করতে পারে। উইকেট এতটাই ঘাসে ঢাকা যে বাইরে থেকে দেখা গেলে আলাদা করে শনাক্ত করতেও কষ্ট হয়। মিরপুরের ধীরগতির, লো উইকেটের পর সিলেটের স্বভাবগতভাবে বাউন্সি এবং বল দ্রুতগতিতে ব্যাটে উঠায় বাংলাদেশকে দ্রুত খাপ খাওয়াতে হবে।
লিটন কুমার দাসের নেতৃত্বে টিম ম্যানেজমেন্ট মিরপুর জয়ের রেশে সিলেটে পৌঁছালেও প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এই পেস-সহায়ক উইকেটে ধারাবাহিকতা তৈরি করা। এমন কন্ডিশনে পেস বোলিং ইউনিটের ভারসাম্য ধরে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। অনুশীলনে প্রধান পেসার তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানা বল হাতে দেখা যায়নি; ম্যানেজমেন্ট তাদের কর্মভার এবং ওয়ার্কলোড নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে পেস আক্রমণে পরিবর্তনের সম্ভাবনা উড়ানো যাচ্ছে না — শরিফুল ইসলাম ফিরে আসতে পারেন, আর সে ক্ষেত্রে ইবাদত হোসেন একাদশের বাইরে থাকতে পারেন।
ওপেনিংয়ে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মেলে। সাদমান না থাকায় তানজিদ হাসানকে ওপেনিংয়ে দেখা যেতে পারে। পাশাপাশি মাহমুদুল হাসান জয় আঙুলের চোট নিয়ে অনুশীলন করছেন; তাঁর ফিটনেস সম্পর্কে এখনও কিছু অনিশ্চয়তা আছে। যদি জয় শেষ পর্যন্ত খেলতে না পারেন, জাকির হাসানের একাদশে স্থান পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
ঢাকায় ১০৪ রানের বড় জয় বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। সেই রেশ নিয়ে দল চায় সিলেটেও আধিপত্য বজায় রেখে সিরিজ জিততে। তবে পিচ কন্ডিশন, সামাস্যিক ইনজুরি এবং কিভাবে দ্রুততি বদলে নেওয়া যায়—এসবই এই টেস্টে বাংলাদেশের মূল পরীক্ষা হবে।