যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ কিউবার সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ গঠনের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ৯৪ বছর বয়সী এই নেতার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিভিন্ন ধাপ এখন পর্যবেক্ষণের অধীনে রয়েছে এবং গ্র্যান্ড জুরির চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে বলে মার্কিন বিচার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে সংবাদটি জানিয়েছে।
এই উদ্যোগটি মূলত ১৯৯৬ সালে কিউবান বাহিনীর হাতে ‘ব্রাদার্স টু দ্য রেসকিউ’ নামের একটি সংগঠনের বিমান ভূপাতিত হওয়া ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগের প্রেক্ষিতে নেওয়া হচ্ছে। ওই ঘটনার ফলে যে তদন্ত শুরু হয়েছিল, তার নথি ও প্রমাণাদি যাচাই করার পরই এখন বিচারিক ধাপ এগোচ্ছে। সরকারি উৎসগুলো বলছে—চূড়ান্ত অভিযোগ সাজানোর আগে গ্র্যান্ড জুরির অনুমোদনকে সিদ্ধান্তপ্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ফ্লোরিডার সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ইউএস অ্যাটর্নি অফিস দীর্ঘদিন ধরেই কিউবার শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত চালিয়ে আসছে। পাশাপাশি, ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে কিউবার ওপর আরোপিত কড়া নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপ দেশটিতে তেলের ও বিদ্যুৎ সরবরাহে জটিলতা তৈরি করেছে বলে সমালোচনা করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার ফলে কিউবার বর্তমান অর্থনীতিতে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সঙ্কটের মাত্রা বেড়ে গেছে—এমন অভিযোগও উঠেছে।
সংবাদটিতে বলা হয়েছে, সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ সম্প্রতি হাভানায় কিউবান কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। সেখানে কিউবার শাসনব্যবস্থায় অর্থবহ সংস্কার আনার প্রতিশ্রুতি বিনিময়ে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতার প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে বলে পরিচিত সূত্র উল্লেখ করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দাখিল করা হয়, তাহলে তা দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও অচল বা উত্তেজনাপূর্ণ করতে পারে। দীর্ঘদিনের বৈরিতার প্রেক্ষাপটে এই ধরনের আইনি পদক্ষেপ কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্রের উপরিপ্রতিষ্ঠিত উত্তেজনাকে তীব্র করতে পারে—এমন আশঙ্কাও ব্যক্ত করা হচ্ছে।
এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা কিউবার সরকার থেকে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য সীমিত; তদন্তের পরবর্তী ধাপ ও গ্র্যান্ড জুরির সিদ্ধান্তই নিম্নোক্ত ঘটনাপ্রবাহ নির্ধারণ করবে।