নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি বহুতল ভবনের একটি ফ্ল্যাটে জমে থাকা গ্যাসের কারণে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে, যার ফলে একে একে নিজ নিজ রোগে মারা যান পরিবারের পাঁচ সদস্য। শুক্রবার সকালে শেষ নিঃশেষ হয়েছে পরিবারের মা সায়মা (৩২), তার চোখে আর দেখা যায়নি স্বজনদের মর্মান্তিক এই শহীদিময় পৃথিবী। এই দুঃখজনক ঘটনা নিশ্চিত করেছেন রাজধানী জন্মলগ্নের জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকরা।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বিস্ফোরণের ওই ঘটনায় গত সোমবার শুরু হয় পরিবারটির জীবন বিপর্যস্ত হওয়া। ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, পরিবারের গৃহকর্তা মো. কালাম (৩৫) সোমবার সকালের দিকে গ্যাসের দগ্ধে প্রথম মৃত্যুবরণ করেন, তার শরীরের ৯৫ শতাংশই পুড়ে যায়। এরপর বুধবার সন্ধ্যায় সাত বছরের শিশু কথা, এবং বৃহস্পতিবার সকালে মুন্না (১০) মৃত্যু বরণ করে। চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের শরীরের শ্বাসনালীসহ বড় অংশ দগ্ধ হয়েছিল। আর আজ শুক্রবার সকালে মা সায়মার মৃত্যু ঘটে, ফলে মৃতের সংখ্যা পরিবারে বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ।
উল্লেখ্য, এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ১০ মে সকালে গিরিধারা এলাকার একটি ছয়তলা ভবনের নিচতলার ফ্ল্যাটে ঘটে। প্রাথমিক তদন্তে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, তিতাস গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বের হওয়া গ্যাস জমে ছিল ফ্ল্যাটের ভিতরে, যা কোনোভাবে আগুনের সঙ্গে সংস্পর্শে এসে বিস্ফোরিত হয়। দীর্ঘদিনের অবহেলা ও গ্যাসের লিকেজের কারণে এই মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে, যা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।