শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আসছে হাত বাড়ালেই মাদক ও অপরাধের ভয়ঙ্কর দাপট

ঢাকা এবং দেশের অন্যান্য এলাকায় হাত বাড়ালেই সহজলভ্য হয়ে উঠেছে বিভিন্ন ধরণের মাদকদ্রব্য যেমন মেমেন, মদ, গাঁজা, ইয়াবা,আইস ও হিরোইন। এসব নেশার কারবারের সাথে জড়িত রয়েছে এক abrangষ অপরাধী চক্র, যারা হত্যা, খুন, ধর্ষণসহ নানা ন্যাক্কারজনক অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ ও কিশোর সমাজের ওপর এর প্রভাব ব্যাপকভাবে পড়ছে, তারা মাদকাসক্ত হয়ে নানা অপরাধের শিকার ও অংশীদার হয়ে পড়ছে।

দেশজুড়ে মাদক ব্যবসার কারণে প্রতিদিনই হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা ভয়ঙ্কর হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১২টি হত্যাকাণ্ড ঘটছে এবং এর সাথে মাদকের সংশ্লিষ্টতা অনেকটা নিশ্চিত। এ ধরনের নৃশংস খুনের পেছনে মূল কারণ হিসেবে মাদকের প্রভাবকে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাদকাসক্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, বিশেষ করে কিশোর ও তরুণদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ১৫ থেকে ৩০ বছর বয়সের যুবসমাজই প্রধানত এই সমস্যার কেন্দ্রে। তারা ইয়াবা ও গাজা সহ অন্যান্য মাদকসেবনে আসক্ত হয়ে পড়ছে, যা তাদের মধ্যে নানা অপরাধের জন্ম দিচ্ছে। রাজধানীসহ সারাদেশে পাড়া-মহল্লা ও গ্রামাঞ্চলে গ্যাং সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে অস্ত্রের ভয়ঙ্কর উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। মোহাম্মদপুর, মিরপুর, উত্তরা, বাড্ডা, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, লালবাগ ও কামরাঙ্গীরচরে প্রকাশ্যে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা রামদা, চাপাতি, ছুরি দিয়ে হত্যাকাণ্ড সহ নানা অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে।

এগুলো ছাড়াও খুন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও দখলবাজির মতো অপরাধে জড়িত হয়ে উঠছে গ্যাং সদস্যরা। রাজনৈতিক দালাল, ভূমিদস্যু ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এই গ্যাংগুলোকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে আসছে।

মনোবিজ্ঞানীদের বক্তব্য, এইসব যুবকরা মূলত মাদক ও অপরাধের সাথে জড়িত হয়ে পড়ে, যা তাদের ভবিষ্যৎ ধ্বংসের পথে নিয়ে যায়। তারা স্কুল-কলেজে থাকার পরিবর্তে চুরি, ছিনতাই ও মারামারি করে প্রকাশ্যে অপরাধের অপপ্রয়াস চালাচ্ছে।

সরকার ইতিমধ্যে যেমন সতর্কতামূলক নির্দেশনা দিয়েছেন, তেমনি পুলিশ ও র‍্যাব উত্তরোত্তর অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে মোহাম্মদপুর, তেজগাঁও সহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন ছয়-সাত শতাধিক কিশোর ও তরুণকে গ্রেপ্তার করে মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার করা হচ্ছে। তবে অপরাধের ধরন ও পরিমাণ এখনও কমেনি, কারণ মূল মাদক ও গ্যাংম্যাগের নেতা-উৎসগুলো অব্যাহতভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

পুলিশের অনেক কর্মকর্তার মতে, বড়ভাই ও প্রভাবশালী নেতারা এই গ্যাংগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। দুর্নীতির কারণে অনেক অপরাধী ধরা পড়লেও সহজে মুক্তি পেয়ে আবার অপরাধে ফিরে আসে। পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির সতর্ক করে বলেছেন, মাদক ব্যবসায়ীদের কেউ ছাড় পাবে না, কারো বিরুদ্ধে যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমাদের পুলিশ-প্রশাসন বলছে, মাদক ও অস্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদের যেকোনো ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। র‍্যাবও জানাচ্ছেন, তারা অপরাধীদের গ্রেপ্তারে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তবে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদকের চালান বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সাধারণ জনগণের সচেতনতাও জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, সমাজে মাদকের সহজলভ্যতা বাড়লে অপরাধের হারও বেড়ে যাবে। মনোচিকিৎসকদের মতে, মাদকাসক্তির পাশাপাশি মানসিক রোগ ও সামাজিক অবক্ষয়ও দেখা দিচ্ছে। তরুণ সমাজের এই ভবিষ্যৎ অনিরাপদে পরিণত হচ্ছে, যা দেশের জন্য খুবই বিপজ্জনক। এ পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য সমাজের সব স্তরকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, যাতে একটি সুন্দর, নিরাপদ ও সুস্থ আগামী দেশের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়।

পোস্টটি শেয়ার করুন