রবিবার, ১৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রতিহিংসা নয়, সম্প্রীতি: ভোলায় হাফিজ ইব্রাহিমের সহনশীল রাজনীতির নতুন মডেল

বাংলাদেশের রাজনীতি যেখানে প্রতিহিংসা ও সংঘাতকে নিয়ম হিসেবে দেখায়, সেখানে ভোলার দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিন (ভোলা-২) আসনে এক ভিন্ন গল্প হচ্ছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ মো. হাফিজ ইব্রাহিমের নেতৃত্বে স্থানীয় রাজনীতিতে জন্ম নিয়েছে একটি সহনশীল ও গণতান্ত্রিক আচরণ—যেটি এলাকার মানুষদের মধ্যে সহজে আমেজ ছড়াচ্ছে।

গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশের নানা স্থানে অস্থিরতার খবর থাকলেও ভোলা-২ এ চিত্রটা আলাদা। স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলছেন, এখানে কোনো রাজনৈতিক প্রতিশোধের ঘটনা দেখা যায়নি; আওয়ামী লীগের জনপ্রতিনিধিরাও মামলার বা হামলার ভয়ে নিরাপত্তাহীন বোধ করছেন না এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন।

উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার আলম খাঁন জানান, হাফিজ ইব্রাহিম বারবার বলেন, “রাজনীতি হবে জনগণের কল্যাণে, প্রতিশোধের জন্য নয়।” তাঁর এই নির্দেশনা ও আচরণ তৃণমূল পর্যায়ে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে—দলীয় বিরোধ ভুলে শান্তিপূর্ণ সমাধানের মানসিকতা গড়ে উঠছে।

অঞ্চলের কথিত তিক্ত স্মৃতি ম্লান হয়ে আসছে। নেতাদের স্মরণে, আগের সরকারের সময় হাফিজ ইব্রাহিমের বাসভবনে একাধিক হামলা হয়েছিল এবং তাকে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হয়েছিল। তবুও ক্ষমতা বদলের পর তিনি প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলা কিংবা ভাঙচুরের অনুমতি দেননি; বিশেষ করে সাবেক এমপি আলী আজম মুকুলের বাড়ি নিয়ে এমন একটি উদাহরণ স্থানীয়দের কাছে উল্লেখযোগ্য।

রাজনীতি এখন শুধুই দলীয় লড়াই নয়—সামাজিক বিচারে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করা হচ্ছে। উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী শহীদুল আলম নাসিম জানান, এখন বিভিন্ন বিরোধ নিয়ে আওয়ামী লীগনেতাকর্মীরাও তাদের কাছে বিচার চান। তারা বলছেন, “দলমত নির্বিশেষে যিনি সঠিক, তিনিই বিচার পাচ্ছেন” — এমন নীতিতে কাজ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এই পরিবর্তন সাধারণ মানুষের মধ্যে শান্তি ও স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। উদ্বেগ-মিশ্রিত রাজনৈতিক পরিবেশে এমন সংঘাতহীন পরিস্থিতি তাঁরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত, যদি ভোলার এই সহাবস্থানের উদাহরণ দেশের অন্যান্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে তা বাংলাদেশি গণতন্ত্রের জন্য লাভজনক হবে।

প্রতিহিংসা বাদ দিয়ে ন্যায্যতা ও শান্তির পথে এগোনো—এই উদ্যোগ এখন ভোলার রাজনৈতিক মহলে একটি প্রশংসনীয় মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয় নেতারা আশা করছেন, দীর্ঘমেয়াদে এভাবেই সামাজিক সংহতি ও স্থানীয় শান্তি রক্ষা সম্ভব হবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন