ঐতিহাসিক ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে চেলসিকে ১-০ গোলে হারিয়ে এফএ কাপের শিরোপা ফিরিয়ে নিল ম্যানচেস্টার সিটি। শনিবারের এই উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনালে কষ্টার্জিত জয় ধরে রেখে পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা ঘরোয়া ফুটবলে ট্রেবল জয়ের স্বপ্নটি এখনও জীবিত রেখেছে। গত দুই মৌসুমে ফাইনালে হারের পরে এবার ক্লাবটি অষ্টমবারের মতো এ মর্যাদাপূর্ণ ট্রফি জিতলো।
ম্যাচের শুরু থেকেই চেলসি রক্ষণভাগ সজাগ রেখে ম্যানচেস্টার সিটির আক্রমণকে প্রতিহত করার চেষ্টা করে। প্রথমার্ধের ২৭ মিনিটে আর্লিং হালান্ড একটি গোল করলেও অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়ে যায়। বিরতির ঠিক আগে হালান্ডের আরেকটি তীব্র শট চেলসি গোলরক্ষক রবার্ট সানচেজ দুর্দান্তভাবে আটকান।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সিটির জয়ের মুহূর্ত আসে ম্যাচের ৭২ মিনিটে। বার্নার্দো সিলভার পাস থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণ থেকেই কোণাভিত্তিক সমন্বয়ে গোল হলে সিটির প্রয়োজনীয় একমাত্র গোলটি আসে এবং দলের জয় নিশ্চিত হয়। চেলসি শেষ পর্যন্ত প্রতিপক্ষকে সমতায় ফেরাতে পারল না।
ম্যাচের শেষ পর্যায়ে ফিরে আসার আশায় মরিয়া ছিল ব্লুজরা। বিশেষ করে এনজো ফার্নান্দেজের এক শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে গেলে তাদের সমতায় ফেরার সেরা সুযোগটি হাতছাড়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স City’s রক্ষণভাগ দৃঢ় থাকায় মাঠ ছাড়ে তারা জয় ধরে রেখে।
এই শিরোপা জয়ের ফলে পেপ গার্দিওলা ম্যানচেস্টার সিটির কোচ হিসেবে আরেকটি মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। ক্লাবের দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তাঁর ২০তম শিরোপা এবং এফএ কাপ মঞ্চে এটি তাঁর তৃতীয় সাফল্য।
গত মার্চে লিগ কাপে জয় করার পরে এফএ কাপ জয়ের এই সাফল্য ম্যানচেস্টার সিটির সামনে এখন প্রিমিয়ার লিগ জয়ের সম্ভাবনাকেবরুঝিয়ে দিয়েছে। লিগ টেবিলে তারা শীর্ষে থাকা আর্সেনালের চেয়ে মাত্র দুই পয়েন্ট পিছনে রয়েছে এবং এখনও তাদের দুটি ম্যাচ বাকি। মঙ্গলবার বোর্নমাউথের বিপক্ষে জয় পেলে তারা আর্সেনালের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারবে।
গার্দিওলার সম্ভাব্য বিদায়ী মৌসুমে অন্তত দুটি ঘরোয়া শিরোপা নিশ্চিত করে সিটি ইতালি–এক স্বর্ণালী সময় কাস্ট করেছে; প্রিমিয়ার লিগ জিতলে সেটি ক্লাবের জন্য এক ঐতিহাসিক অর্জন হয়ে উঠবে এবং ঘরোয়া ট্রেবল অর্জনের পথে তারা এক বড় পদক্ষেপ নেবে।
এফএ কাপ জয়ের পর থেকেই সিটিজেনদের সম্পূর্ণ মনোযোগ এখন লিগ শিরোপা কুড়ানোয়। যদি আর্সেনাল কোনো কারণে পয়েন্ট হারায় এবং সিটি তাদের বাকি ম্যাচ দুটি জিতে নেয়, তাহলে ঘরোয়া ট্রেবল হয়ে উঠবে সম্ভবপর। বর্তমান ফুটবলে ম্যানচেস্টার সিটির কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্ব ও আধিপত্য আবারও দেখিয়েছে কেন তাদের বিশ্বসের এক ক্লাব হিসেবে গণ্য করা হয়; ভক্তরা এখন লিগের চূড়ান্ত লড়াই দেখতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।