শনিবার, ২৩শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬: ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনের টাইগ্রেস সংবর্ধনা

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে আয়োজিত হতে যাওয়া আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-কে সামনে রেখে ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশন বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলকে এক বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা দিয়েছে। বিশ্বকাপের উদ্দেশ্যে আগামী ২৪ মে রাতে দেশ ছাড়ার আগের বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হাইকমিশনে এই শুভেচ্ছা অনুষ্ঠান করা হয়। অনুষ্ঠানে দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ, বিসিবির পরিচালকবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর কন্যা জাইমা রহমানসহ বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক অনুষ্ঠানে ক্রিকেটকে দুই দেশের বন্ধুত্বের শক্ত ভিত্তি হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, ‘ক্রিকেট বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয়; এটি মানুষের মধ্যে সংযোগ গড়ে তোলে এবং সম্পর্ককে আরও মজবুত করে।’ তিনি টাইগ্রেসদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে হালকা আড্ডায় উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও মনোযোগ দেখেই তিনি উৎসাহিত, এবং ভিন্ন গ্রুপে থাকা সত্বেও স্বাগতিক ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডকে সমর্থন করার পাশাপাশি লাল-সবুজের পাশে দাঁড়াতে তার কোনো দ্বিধা নেই। তাঁর আন্তরিক কথায় উপস্থিত গণমানুষ করতালে অভিনন্দন জানান।

বিসিবির নারী উইংয়ের প্রধান রাশনা ইমাম ব্রিটিশ হাইকমিশনের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, ‘বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটারদের সংগ্রামী জীবন পুরো দেশের নারীরাই অনুসরণ করে; তারা অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল উদাহরণ।’ অনুষ্ঠানকালে দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি হাইকমিশনারকে বাংলাদেশ দলের জার্সি উপহার হিসেবে তুলে দেন এবং বিসিবি পরিচালক সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ একটি বিশেষ স্মারক প্রদান করেন।

প্রধানমন্ত্রীর কন্যা জাইমা রহমানও সংবর্ধনায় অংশ নিয়ে খেলোয়াড়দের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের প্রস্তুতির খোঁজখবর নেন। বিশেষভাবে তিনি বগুড়ার এক ক্রিকেটারের সঙ্গে আলাপচারিতায় শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামের সংস্কারের বিষয়টি নিয়েও কথা বলেন।

অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি এই আয়োজনের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘যে দেশে আমরা খেলতে যাচ্ছি, সেই দেশের প্রতিনিধি এমন সাদরে আমাদের বিদায় দিলে সেটি সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। আমরা বিশ্বকাপে নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শন করতে চাই।’ প্র্যাকটিস ও মেন্টাল প্রস্তুতির ওপর জোর দিয়ে তিনি দলের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আনন্দঘন পরিবেশ এবং উত্সাহব্যঞ্জক বক্তব্যগুলোর মধ্য দিয়ে টাইগ্রেসদের মনোবল আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে উপস্থিতরা মনে করছেন। আশা করা হচ্ছে এই ইতিবাচক সেতো অনুষ্ঠানের প্রভাবে দল বিশ্বকাপে আত্মবিশ্বাস নিয়ে অংশগ্রহণ করবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন