রবিবার, ২৪শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইবিতে ডায়না চত্বরে সোনালুর সোনালি হাসি

প্রখর রোদ যখন তীব্রতা বাড়ায় და মানুষ অস্বস্তিতে উপদ্রুত, ঠিক তখনই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়না চত্বর সোনালি ফুলের কোলাহলে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। গ্রীষ্মের তাপ থেকে মুক্তি দিয়ে সোনালু গাছ যেন ক্যাম্পাসকে এক আলোকসিক্ত, প্রশান্তিময় নৈসর্গিক ছবি উপহার দিচ্ছে।

ক্যাম্পাসে ঢুকলেই চোখে পড়ে সারিবদ্ধ সোনালু গাছগুলোর উজ্জ্বল হলুদ কুঁড়ি। পাতাঝরা ডালজুড়ে থোকায় থোকায় ঝুলছে ঝরনা-সদৃশ ফুল। হালকা বাতাসে যখন পাপড়িগুলো ভাসে, তখন নিচের সবুজ ঘাসে নেমে আসে হলুদের মতো এক নরম চাদর — এমন দৃশ্য ধরতে প্রতিদিনই অনেক শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থী ভিড় করছেন। কেউ ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন, কেউ ছবি তুলছেন, কেউ আবার ঝরে পড়া পাপড়ি কুড়িয়ে সাজসজ্জায় ব্যবহার করছেন।

কৃষ্ণচূড়া, জারুল ও রক্তকাঞ্চনের সমাহারে ক্যাম্পাসের প্রকৃতির বৈচিত্র্য আরো বাড়িয়েছে সোনালু। গ্রীষ্মের দাবদাহে ক্লান্তি মেটে এই ছায়া আর চোখঝলকা করা হলুদের রঙে। ক্লাস ও পরীক্ষার চাপের পরে ছাত্রছাত্রীরা সোনালুর ছায়ায় সময় কাটিয়ে মানসিক প্রশান্তি পেতে চাইছে। অনেকে বন্ধু-মেতেই বসে গল্প করেন, কেউবা নিঃশব্দভাবে ফুলের আলোকছটায় বিশ্রাম নিচ্ছেন।

শিক্ষার্থী মোসাদ্দেক বলেন, “বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠের তীব্র দাবদাহে ওদিক থেকে হয়তো গরমই বেশি লাগে, কিন্তু প্রতিবারের মতো এবারও সোনালু গাছগুলো ফুলে ফেটে উঠেছে। ঝরে পড়া হলুদ পাপড়িতে ডায়না চত্বর যেন এক নান্দনিক ক্যানভাস—এমন দৃশ্য ক্যাম্পাসের ব্যস্ত জীবনে ছোয়া দেয় এক চিলতে শান্তি।”

অন্য এক শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান বলেন, “ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট ও পরীক্ষার চাপের ফাঁকে আমরা প্রিয় বন্ধুদের সঙ্গে এখানে এসে বসি। ইট-পাথরের বিশৃঙ্খলার মাঝে ক্যাম্পাসের এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মানসিকভাবে পরিত্রাণ দেয় এবং প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসাও বাড়ায়।”

সোনালু হচ্ছে গ্রীষ্মকালীন একটি পরিচিত ফুল, যার বৈজ্ঞানিক নাম Cassia fistula। বাংলায় এটিকে সোনালু বা বানরলাঠি বলা হয়। ইংরেজিতে ‘Golden Shower’ হিসেবে বহুল পরিচিত — দূর থেকেই দেখা গেলে গাছ থেকে যেন সোনালি ঝর্ণা ঝরে পড়ছে এমনই অনুভূতি হয়।

এই সোনালি ক্যানভাসটি এখন ইবি ক্যাম্পাসে এক প্রাকৃতিক উৎসবের আমেজ সৃষ্টি করেছে, যা শিক্ষার্থীদের নিত্যদিনের গমগমে জীবনে একটু আরাম ও আনন্দ যোগ করছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন