খুলনার ডুমুরিয়ায় পার্টনার প্রোগ্রামের আওতায় ডি এল আর ১.২-এর উদ্যোগে উত্তম কৃষি চর্চা (GAP) বাস্তবায়ন ও GAP সার্টিফিকেশন বিষয়ে দিনব্যাপী কৃষক প্রশিক্ষণ ডুমুরিয়া কৃষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য ছিল মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের হাতে-কলমে দক্ষতা বৃদ্ধি করে নিরাপদ ও মানসম্মত পণ্য উৎপাদন নিশ্চিত করা।
প্রশিক্ষণের সভাপতিত্ব করেন ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ নাজমুল হুদা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা উপপরিচালক মোঃ নজরুল ইসলাম, যিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে GAP অনুশীলনের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, মাত্র উৎপাদন বাড়ানোই সব কথা নয়; উৎপাদিত ফসলটি যদি নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত না হয়, তাহলে মানুষের কল্যাণে তা অসফল। GAP মানে হচ্ছে সঠিক নিয়ম মেনে রাসায়নিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, সুষম সার প্রয়োগ ও নিরাপদ পরিবেশনযোগ্য পদ্ধতি নিশ্চিত করা, যাতে ফসল জীবাণুমুক্ত ও রসায়নমুক্ত থাকে।
প্রধান অতিথি আরও বলেন, ডুমুরিয়ার সবজি ও ফলমূলের সুনাম ইতোমধ্যেই দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। যদি কৃষকরা GAP সার্টিফিকেট অর্জন করতে পারেন, তাহলে এ অঞ্চলের পণ্য সহজেই ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্যসহ আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করতে পারবে। রপ্তানি হওয়ার ফলে কৃষকরা তাদের উৎপাদনের সঠিক মূল্য পাবেন এবং জীবনমান উন্নত হবে।
প্রধান অতিথি কৃষকদের মাটির স্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষার ওপর জোর দেন। তিনি অনুরোধ করেন অযথা রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার বন্ধ করতে এবং GAP-এর শর্ত অনুযায়ী জৈব সার ও নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে কীট ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করতে, যাতে মাটির উর্বরতা দীর্ঘস্থায়ী থাকে।
বিশেষ অতিথি অতিরিক্ত উপপরিচালক (পিপি) মোঃ তৌহিদীন ভূইয়া কৃষিক্ষেত্রে পার্টনার (PARTNER) প্রোগ্রামের লক্ষ্য তুলে ধরে বলেন, সরকারের এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য কৃষিকে আধুনিক, বাণিজ্যিক ও লাভজনক করা। ডি এল আর ১.২-এর মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সরাসরি প্রশিক্ষিত করে এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা হবে। তিনি কৃষকদের বললেন—they are not just producers but guardians of public health—and urged them to প্রয়োগ করা শিখাৎকৃত পদ্ধতি নিজের জমিতে আজ থেকেই বাস্তবায়ন করতে।
খুলনা অঞ্চলের সিনিয়র মনিটরিং অফিসার মোঃ মোছাদ্দেক হোসেন প্রধান আলোচক হিসেবে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তিনি সরলভাবে দেখান কখন, কতটুকু সার ব্যবহার করবেন; কীভাবে সঠিক সময়ে এবং প্রতিরক্ষামূলক ফাঁদ দিয়ে পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ করবেন; কীটনাশক ব্যবহারের পর কতদিন অপেক্ষা করে বাযশক কাটা উচিত; এবং কিভাবে কিউআর কোড তৈরি করে খাদ্য সরবরাহ চেইনে ট্রেসেবিলিটি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, ‘‘শুনলে শেখা যায় না, নিজের চোখে দেখে ও হাতে করে করলেই জ্ঞান টিঁকে থাকে।’’
প্রশিক্ষক হিসেবে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ হামিদুল ইসলাম দিকনির্দেশনা প্রদান করেন এবং অংশগ্রহণকারীদের জন্য কার্যকরী কৌশল ও চেকলিস্ট শেয়ার করেন। একদিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে মোট ৩০ জন কৃষক ও কৃষাণি অংশগ্রহণ করেন এবং প্রশিক্ষণকালে তারা সরাসরি প্রদর্শন ও অনুশীলনে অংশ নেন।
শেষে প্রধান অতিথি ও আয়োজকরা অংশগ্রহণকারী কৃষকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, প্রশিক্ষণে শেখা নিয়মগুলো কাগজে রাখার জন্য নয়—প্রতিটি কৃষক যেন তা তাদের জমিতে প্রয়োগ করে ডুমুরিয়াকে নিরাপদ কৃষির মডেল হিসেবে গড়ে তুলেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের নিয়মিত মনিটরিং ও সহায়তার মাধ্যমে এ উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়ন করার আহ্বান জানানো হয়।