বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সতর্ক করেছে যে গাজার হাসপাতালগুলো অত্যন্ত জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে সঠিকভাবে কাজ করতে পারছে না। শুক্রবার (২২ মে) সংস্থাটি ইসরায়েলের এমন নিষেধাজ্ঞার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে, যা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রীর প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করছে। খবরটি জানায় বার্তা সংস্থা এএফপি।
ডব্লিউএইচও-র প্রতিনিধিত্বকারী রাইনহিল্ড ভ্যান ডি উইরড জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গাজার উপত্যকার বেশিরভাগ হাসপাতাল ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো কেবল আংশিকভাবে কাজ করছে; কোনো প্রতিষ্ঠানই পুরোপুরি কার্যকর নয়। তার কথায়, প্রধান কারণে তারা যে সংকটের মধ্যে আছে তা হলো চিকিৎসা সরঞ্জামের মারাত্মক অভাব।
ভ্যান ডি উইরড জানান, সমস্যার একটি বড় অংশ হলো ইসরায়েল এমন কিছু জিনিসকে ‘দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করে প্রবেশে বাধা দিচ্ছে — অর্থাৎ সেসব সামগ্রী সামরিক কাজে ব্যবহার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে ডব্লিউএইচও-র একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জরুরি ওষুধ ও সরঞ্জামের তালিকা আছে, এবং সেই তালিকারই আইটেমগুলো প্রবেশে বাধা হওয়া উচিত নয়।
সংস্থার প্রতিনিধি একাধিক উদাহরণ দিয়ে জানান যে ল্যাবরেটরি ও পরীক্ষাগারের সরঞ্জাম না থাকায় রোগ নির্ণয় ও সম্ভাব্য মহামারী শনাক্ত করা যাচ্ছে না। তিনি আরও বললেন, ‘অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর ছাড়া গুরুতর অসুস্থ রোগীরা মারা যাচ্ছে।’ এই ধরনের সরঞ্জামের ঘাটতি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে ধাক্কা দিচ্ছে এবং রোগীদের দ্রুত ও নিরাপদ চিকিৎসা পায়াটা কঠিন করে তুলছে।
প্রেক্ষাপট হিসেবে বলা হয়েছে, গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়। ওই যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে আটকে থাকা কিছু ব্যক্তির মুক্তির বিনিময়ে বন্দীদলের বিনিময় হয়; তবু আক্রমণ এবং সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অভিযোগ-প্রতিদাবি চলেছে।
ভ্যান ডি উইরড জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হওয়া সত্ত্বেও এপর্যন্ত অন্তত ৮৮০ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং প্রায় ২ হাজার ৬০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। ডব্লিউএইচও চলতি বছরে গাজার স্বাস্থ্যখাতে ২২টি ইসরায়েলি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত করেছে।
তিনি আরও বলেন, সংঘাতের ফলে গাজার ৪৩ হাজারের বেশি মানুষ এমন আঘাত পেয়েছে যা তাদের জীবন চিরস্থায়ীভাবে বদলে দিয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১০ হাজার শিশু। এই সবাইকে দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন, কৃত্রিম অঙ্গ, এবং সহায়ক যন্ত্রপাতি প্রয়োজন, কিন্তু এসব সরঞ্জাম গাজায় প্রবেশে দেরি হচ্ছে বা নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ছে। তিনি তুলনা করে বললেন, ‘‘আমরা যা ভেতরে পাঠাতে পারছি, তা প্রয়োজনের তুলনায় সমুদ্রের মধ্যে এক ফোঁটা পানির মতো।’’
সংক্ষিপ্তভাবে, ডব্লিউএইচও মনে করিয়ে দিয়েছে যে জরুরি ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহে কোনো প্রশাসনিক জটিলতা বা নিষেধাজ্ঞা থাকা উচিত নয়। দ্রুত ও বাধামুক্ত হস্তান্তর ছাড়া গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা আরও অবনতি হবে এবং অসংখ্য অপ্রয়োজিত মৃত্যু ও স্থায়ী অক্ষমতার ঝুঁকি বাড়বে।
এদিকে, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ একটি মার্কিন সমর্থিত শান্তি পরিকল্পনা অনুমোদন করে যেখানে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম দ্রুত ও সম্পূর্ণভাবে পুনরায় চালুর আহ্বান জানানো হয়েছিল। এই আহ্বান বাস্তবায়ন ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পৌঁছে দেয়া—এসব এখন সময় অকপট জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন।