সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১০ দিনে চতুর্থবার ভারতে বাড়ল জ্বালানির দাম

ভারতে গত ১০ দিনে চতুর্থবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে, जिससे সাধারণ মানুষের জীবনে নতুন চাপ সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (গতকাল) খুচরা পর্যায়ে পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্য নিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়িয়ে দেওয়া হয়। নয়াদিল্লিতে পেট্রোল প্রতি লিটার 2.61 রুপি বাড়িয়ে হয়েছে 102.12 রুপি, আর ডিজেল 2.71 রুপি বাড়িয়ে হয়েছে 95.20 রুপি—এবার প্রথমবার ডিল্লিতে পেট্রোলের দাম সেঞ্চুরির গণ্ডি ছাড়িয়েছে।

মূল্যবৃদ্ধির ছাপ দেশের অন্যান্য পৌণঃরাজ্য শহরগুলোতেও পড়েছে। পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় পেট্রোল লিটার প্রতি 2.87 রুপিতে বেড়ে 113.51 রুপিতে পৌঁছেছে এবং ডিজেল লিটার প্রতি 2.80 রুপিতে বাড়িয়ে 99.82 রুপিতে বিক্রি হচ্ছে। মুম্বাইতে পেট্রোল এখন 111.21 রুপি এবং ডিজেল 97.83 রুপি লিটারে। চেন্নাইতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম যথাক্রমে 107.77 ও 99.55 রুপিতে স্থিত আছে। গত দশ দিনের হিসাব করলে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম মোটামুটি সাত রুপিরও বেশি বেড়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল সংকটই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সম্পর্কিত উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। দেশের বড় তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো—ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন, ভারত পেট্রোলিয়াম ইত্যাদি—আগে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে চড়া দামে তেল ক্রয় করে অভ্যন্তরীণ বাজারে দামটি স্থিতিশীল রেখেছিল; কিন্তু এর ফলে প্রতিদিন তাদের প্রায় এক হাজার কোটি রুপি লোকসান হচ্ছিল, যা অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়ে উঠেনি।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনে তেলভিত্তিক খরচ বাড়িয়েছে। পরিবহন খরচ বেড়ানোর প্রত্যক্ষ প্রভাব হিসেবে বাজারে দুধ, রুটি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও ধীর গতিতে বাড়তে শুরু করেছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরേന്ദ്ര মোদি দেশবাসীকে জ্বালানি সংরক্ষণে আহ্বান জানিয়েছেন এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সুরক্ষিত রাখতে এক বছরে সোনা কেনা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

গত ১৫ মে থেকে ধারাবাহিকভাবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে—১৫ মে একবারে লিটার প্রতি 3 রুপি বাড়ানো হয়েছিল, পরে ১৯ ও ২৩ মে আরও বাড়ি আসে এবং এবার আরও একটি দফায় আবার মূল্য বৃদ্ধি ঘটল। তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার ওপর ভিত্তি করে কবে দাম স্থিতিশীল হবে তা বলা মুশকিল। ফলে ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে এবং বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে ভারতের অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ পড়ার আশঙ্কা থাকতে পারে।

পোস্টটি শেয়ার করুন