বৃহস্পতিবার, ২৮শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বন্দর আব্বাসে মার্কিন বিমান হামলা, ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র লক্ষ্য

মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কৌশলগত শহর বন্দর আব্বাসে অবস্থিত একটি সামরিক স্থাপনায় আবারও বিমান হামলা চালিয়েছে। বুধবার সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে তাদের লক্ষ্য ছিল একটি স্থল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, যেখানে একটি ড্রোন উৎক্ষেপণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে।

সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলা তখন চালানো হয় যখন ওই কেন্দ্র থেকে পঞ্চম ড্রোনটি উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। তারা আরও জানিয়েছে, এর আগেও হরমুজ প্রণালির আশপাশে টহলরত মার্কিন বাহিনীর জন্য হুমকি স্বরূপ চারটি ইরানি ড্রোনকে ভূপাতিত করা হয়।

ইরানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও সূত্র বলছে, বন্দর আব্বাসের পূর্বাংশে ভয়ঙ্কর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তবে তেহরান থেকে এখনো হামলার ফলে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির পরিমাণ সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

এটি গত তিন দিনের মধ্যে ইরানীয় ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বড় ধরণের বিমান হামলা। এর আগে, মঙ্গলবারও দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যকে বিমান আঘাত করা হয়েছিল। এই ধারাবাহিক আক্রমণগুলো চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলছে, কারণ একই সময়ে দুই দেশের মধ্যকার স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও শান্তিচুক্তির বিষয় নিয়ে দোহায় আলোচনা চলছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, মাঠপর্যায়ের এ ঘটনাগুলি আলোচনার টেবিলে উভয় পক্ষের অবস্থানকে আরও কড়া করে তুলতে পারে।

ওয়াশিংটনে বুধবার এক মন্ত্রিসভার বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও শক্ত অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে ইরান সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল অবস্থায় আছে এবং তারা আলোচনায় আসতে বাধ্য হয়েছে; পাশাপাশি ট্রাম্প বলেন, আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে এমন মধ্যবর্তী নির্বাচনের রাজনৈতিক চাপ তাঁর সামরিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করবে না।

বর্তমানে দোহায় চলা আলোচনা ও মাঠে ঘট रही সামরিক অভিযানের তাছাড়া দুই পক্ষের বক্তব্যের মধ্যে বড় ফারাক স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্র ‘আত্মরক্ষার’ ঘোষণা দিয়ে আক্রমণ চালাচ্ছে বলে দাবি করছে, আর ইরান নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সামরিক সক্ষমতার প্রমাণ দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সমাজ দ্রুত সংঘাতের অবসান প্রত্যাশা করলেও বর্তমান পরিস্থিতি—বিশেষত সাম্প্রতিক হামলাগুলো—শান্তি প্রক্রিয়াকে অনিশ্চিত পথে ঠেলে দিচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে এই সামরিক অভিযানের প্রভাব শান্তি আলোচনার ওপর কতটা বিশাল হবে, তা বিশ্বের নজরকাড়ার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন