শনিবার, ৩০শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের দুই ঘণ্টার বৈঠক, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি

হোয়াইট হাউসে উপদেষ্টাদের সঙ্গে শুক্রবার (২৯ মে) দুই ঘণ্টা ধরে বৈঠক করেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈঠক শেষে হোয়াইট হাউসের একটি কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে আলোচ্য বিষয়গুলো নিয়ে সমঝোতা আনার চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু এখনও সব কিছু চূড়ান্ত হয়নি।

ট্রাম্প আলোচনা চলাকালীন দুইদিক থেকেই স্পষ্ট করে বলেছেন যে ইরানকে কখনও পারমাণবিক অস্ত্র বা বোমা রাখার অনুমতি দেয়া হবে না। তিনি আরও চান হরমুজ প্রণালি ‘‘উভয় দিকে অবাধ জাহাজ চলাচলের জন্য’’ পুনরায় খোলা হবে এবং ওই জলপথে থাকা সব মাইন ধ্বংস করা হবে—এগুলো ট্রাম্পের আলোচ্য শর্তের মূখ্য অংশ।

বৈঠকটি হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে ইরান ঘোষণা করেছিল যে তারা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলাপে ঢুকছে না। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলছেন, বৃহস্পতিবার দুই পক্ষ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) হিসেবে একটি কাঠামোতে মৌখিক বা নকশাগত সম্মত হয়েছে, যা এখন ট্রাম্প ও ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

মওকুফ করা খবর অনুযায়ী, ওই সমঝোতা স্মারকের আওতায় যুদ্ধবিরতি ৬০ দিনের জন্য বাড়ানো হবে এবং একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পরবর্তী আলোচনা শুরু হবে—এমন একটি সূচনা-ফ্রেমওয়ার্ক তৈরির কথাই বলা হচ্ছে।

বিবিসির মার্কিন সংবাদ সহযোগী সিবিএস নিউজকে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা উদ্ধৃত করে বলেছে, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কেবল এমন একটি চুক্তিই করবেন, যা আমেরিকার জন্য মঙ্গলজনক এবং তার অলঙ্ঘনীয় শর্তগুলো পূরণ করে। আর সেটি হচ্ছে—ইরান কখনোই পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে না।”

শুক্রবার সকালে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লেখেন, তিনি হরমুজ প্রণালির ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ তুলে নিতে প্রস্তুত, যাতে ওই জলপথে আটকে থাকা জাহাজগুলো ‘‘ঘরে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু করতে’’ পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ ও ধ্বংস করার অনুমতি দিতে হবে এবং “পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোনো অর্থ লেনদেন হবে না।” সূত্রগুলো বলছেন, কয়েকটি তুলনায় তেমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে, তবে মূল শর্তগুলো ছিল অধঃপ্রশস্ত।

বৈঠকের পর হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বিবিসিকে নিশ্চিত করেছেন যে সিচুয়েশন রুমের বৈঠক শেষ হয়েছে, কিন্তু তাড়াতাড়ি কোনো বিশদ জানা যায়নি।

ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি এক নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে বলেছে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য ‘‘সত্য ও মিথ্যার মিশ্রণ’’—তাদের কথা অনুযায়ী সমঝোতা স্মারকে পারমাণবিক উপকরণ ধ্বংস করার কোনো ধারা ছিল না।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেছেন, তারা বর্তমানে ‘যুদ্ধ শেষ করার দিকে মনোনিবেশ করছে’ এবং পারমাণবিক বিষয়ে কোনো আলোচ্যসূচি চলছে না।

প্রেক্ষাপট হিসেবে বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে যে ইরান যেন উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের উৎপাদন বন্ধ করে এবং তাদের বিদ্যমান মজুদ ধ্বংস করে দেয়—কিন্তু ইরান বারবার বলেছে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করে না।

এই বৈঠকের ফল আশাপ্রদ হলেও স্পষ্ট সিদ্ধান্ত না হওয়ায় ইস্যুটি এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়ে গেছে। দুই পক্ষের শর্ত ও দাবি মেলাতে কতটা দূর এগোতে পারবে, তা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পরিষ্কার হবে—বিশেষত যদি সমঝোতা স্মারকের চূড়ান্ত খসড়া অনুমোদনের জন্য উপযোগী সিদ্ধান্ত নেয়া যায়।

পোস্টটি শেয়ার করুন