সোমবার, ১লা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতিসংঘের মরণোত্তর ‘ড্যাগ হ্যামারশোল্ড’ পদক পাচ্ছেন ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী

আফ্রিকার বিতর্কিত আবেই অঞ্চলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী ছয় বাংলাদেশি বীর সেনানীকে মরণোত্তর ‘ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক’ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতিসংঘ। আগামী ৫ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই সম্মাননা তুলে দেবেন। জাতিসংঘের প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই গৌরবময় খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

এ ছয় সাহসী শান্তিরক্ষীর মধ্যে রয়েছেন— মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. সবুজ মিয়া, মো. মাসুদ রানা, মো. মোমিনুল ইসলাম, শামীম রেজা ও সান্ত মণ্ডল। উল্লেখ্য যে, ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর আবেইতে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী নিরাপত্তা বাহিনীতে (ইউএনআইএসএফএ) দায়িত্ব পালনকালে তারা একটি আকস্মিক ড্রোন হামলায় নির্মমভাবে শহীদ হন। তাঁ들의 এই নতুনভাবে শহীদ হওয়ার ঘটনা বিশ্ব শান্তির রক্ষায় তাদের অক্লান্ত প্রচেষ্টার প্রমাণ দেয়। এই মহৎ আত্মত্যাগের জন্যই তাঁদের এই সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেয়া হচ্ছে, যাতে তরুণ প্রজন্মের কাছে এই সাহসী শান্তিরক্ষীদের বলিদান অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে।

এ অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ মহাসচিব পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন, যা ১৯৪৮ সাল থেকে দেখা যেতে পারে, যখন থেকে এই সংগঠনের দায়িত্ব পালনে প্রাণ হারানো প্রায় সাড়ে ৪ হাজার শান্তিরক্ষীর স্মৃতিকে সম্মান জানানো হয়। এবার এই মরণোত্তর পদকপ্রাপ্তদের মধ্যে গত এক বছরে নিহত ৫৯ জনসহ মোট ৬৮ জনকে এই সম্মাননা দেয়া হবে। এই পদক বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কঠিন পরিস্থিতিতেও সাহসিকতার পরিচায়ক।

বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী চতুর্থ বৃহত্তম সংস্থা হিসেবে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা অভিযানে জনবল পাঠাচ্ছে। দেশের ৪ হাজারের বেশি দক্ষ সামরিক ও পুলিশ সদস্য আবেই, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, গণতান্ত্রিক কঙ্গো, লেবানন ও দক্ষিণ সুদানসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে জীবনঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। বিশেষ করে, ২৭৭ জন নারী শান্তিরক্ষীর সক্রিয় অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রশংসিত। বর্তমানে ১১টি মিশনে প্রায় ৫০ হাজার শান্তিরক্ষী বিভিন্ন দেশের হয়ে কাজ করছেন। এই কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশ দেশের ভাবমর্যাদা আরও সুউচ্চ করে তুলছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন