অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে পা রেখেই থালাপতি বিজয়ের প্রতি তামিল চলচ্চিত্র অঙ্গনে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, মুখ্যমন্ত্রী হয়ে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি তামিলনাড়ু সরকার রাজ্যের সিনেমা শিল্পকে শক্তিশালী করার কথা মাথায় রেখে একটি প্রশাসনিক আদেশ জারি করেছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে — কোনো নতুন সিনেমার মুক্তির প্রথম সপ্তাহে প্রতিদিন সর্বোচ্চ পাঁচটি করে শো চলাতে পারবে রাজ্যের সব প্রেক্ষাগৃহ।
দীর্ঘদিন ধরে প্রযোজক ও পরিবেশকরা বলছিলেন, বড় বাজেটের সিনেমার লগ্নি দ্রুত ফেরত আনতে হলে প্রদর্শনীর সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন। পুরনো নিয়ম অনুযায়ী তামিলনাড়ু সিনেমাস (রেগুলেশন) বিধিমালা ১৯৫৭ অনুসারে এক দিনে সর্বোচ্চ চারটি শো দেখানোর নিয়ম ছিল এবং অতিরিক্ত শো দিতে জেলা কালেক্টর বা পুলিশ কমিশনারের অনুমতি নেয়া লাগত। মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের নেতৃত্বাধীন সরকার সেই জটিলতা দূর করে সাধারণ দিনগুলোতেও শো বাড়ানোর সুযোগ এনে দিয়েছে, ফলে প্রেক্ষাগৃহ মালিকদের বারবার প্রশাসনিক অনুমতি নেওয়ার ঝামেলা থাকবে না।
নতুন আদেশে আরও বলা হয়েছে — মুক্তির প্রথম সাতদিন এবং পরবর্তী সময়ে সব সাপ্তাহিক ছুটি ও বিশেষ দিনগুলোতে পাঁচটি শো কোনো প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়াই প্রদর্শন করা যাবে। এই পরিবর্তন বড় বাজেটের ছবিগুলোর উদ্বোধনী সপ্তাহের আয় বাড়াতে সহায়ক হবে বলে ইন্ডাস্ট্রির আশা। দর্শক, পরিবেশক ও থিয়েটার মালিকদের মধ্যে ইতিমধ্যে খুশির বাতাস বইছে; ক্ষুদ্র ও মধ্যম আকারের হলে ব্যবসায়িক গতিশীলতাও বাড়বে বলে তারা মনে করছেন।
শুধু ব্যবসাই নয়, বিশেষজ্ঞরা মতে এই সিদ্ধান্ত সামগ্রিকভাবে তামিল সংস্কৃতি ও বিনোদন খাতকে আরও শক্ত করবে। প্রশাসনিক বাঁধা কমলে নতুন নির্মাণ ও প্রদর্শনীর ক্ষেত্রে উদ্যোগ নেওয়া সহজ হবে, ফলে শিল্পে কর্মসংস্থানও বাড়ার সম্ভাবনা আছে।
অন্যদিকে নতুন সরকার পাইরেসি রোধেও কঠোর হওয়ার সঙ্কল্প দেখিয়েছে। প্রযোজক সংগঠনগুলো ইতোমধ্যেই পাইরেসি চালকদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজেও পাইরেসির শিকার হয়েছিলেন; তাঁর অভিনীত নামজাদা ছবি ‘জন নায়াগন’ মুক্তির আগেই অনলাইনে ফাঁস হয়েছিল। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে দ্রুত ও কার্যকর প্রতিকার নেয়ার জন্য সরকারী স্তরেও চাপ বাড়ার কথা সংশ্লিষ্ট মহলে বলা হচ্ছে।
সার্বিকভাবে, এই প্রশাসনিক পরিবর্তন চলচ্চিত্র অঙ্গনে ইতিবাচকতার সত্ত্বা জাগিয়েছে। সরকার ও শিল্পপাড়ার মধ্যে যে সংলাপ শুরু হয়েছে, তা যদি ধারাবাহিক থাকে তবে তামিল সিনেমা ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী ও লাভজনক হবে বলে মনে করছে অনেকে।