রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতের টেস্টে অনফিল্ড আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা সৈকত

আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব আবারও আলোচনায় এসেছে—বাংলাদেশি আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত বর্তমানে ভারতের বিরুদ্ধে চলমান একমাত্র টেস্টে অনফিল্ড আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আইসিসি এলিট প্যানেলের সদস্য হিসেবে তাঁর উপস্থিতি বড় বড় সিরিজে এখন নিয়মিত দৃশ্য।

শরফুদ্দৌলার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো বড় ম্যাচে স্নায়ু নিয়ন্ত্রণ ও নির্ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা। ভারতীয় দলের ম্যাচগুলোতে তাঁর নিয়মিত উপস্থিতি মানে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার তরফে তাঁর ওপর বিরাট বিশ্বাস। মাঠে প্রযুক্তি ও ব্যক্তিগত অনুচিত পর্যবেক্ষণের সঠিক মিশ্রণে তিনি প্রতিটি পরিস্থিতি সামলান এবং বিতর্ক এড়াতে সতর্ক থাকেন।

ভারতের গুরুত্বপূর্ণ সিরিজগুলোতে তাঁর আম্পায়ারিং নতুন কিছু নয়। চারিত্রিকভাবে উচ্চ-দাবিইয়া ম্যাচ—বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি, ভারত-ইংল্যান্ড সিরিজ, ভারতে অনুষ্ঠিত ভারত-নিউজিল্যান্ড লড়াই—এইসব হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে তিনি সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আইসিসির নিরপেক্ষ আম্পায়ার নীতির পরিপ্রেক্ষিতে শীর্ষ পর্যায়ের লড়াইগুলোতে সঠিক সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করতে তাঁকে বারবার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

শরফুদ্দৌলার ক্যারিয়ারের আলোচিত অধ্যায়ের মধ্যে একটি ছিল ২০২৪ সালের বোর্ডার-গাভাস্কার টেস্টে টিভি আম্পায়ার হিসেবে তাঁর সাহসী রুলিং। ভারতের ব্যাটসম্যান যশস্বী জয়সওয়ালের আউটের ক্ষেত্রেও আলট্রা-এজে স্পষ্ট সংকেত না থাকায় তাঁকে খুবই সতর্কভাবে বলের গতিপথ ও ব্যাট‑বল সম্পর্ক বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। শুরুতে কিছু বিতর্ক সৃষ্টি হলেও পরে বিশ্লেষকরা, বিশেষ করে ধারাভাষ্যকার হার্শা ভোগলেসহ অনেকে তাঁর ওই সিদ্ধান্ত ও বিচারশক্তিকে প্রশংসা করেছেন।

একজন বাংলাদেশি আম্পায়ার হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিয়মিতভাবে প্রধান দলের ম্যাচ পরিচালনা করা দেশের জন্য গৌরবের—এমনকি নতুন প্রজন্মের আম্পায়ারদের জন্য এটি অনুপ্রেরণার একটি বড় উদাহরণ। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী এলিট প্যানেলের সদস্যরা যেকোনো দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সিরিজে নিরপেক্ষ আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন এবং শরফুদ্দৌলার ধারাবাহিক সাফল্য প্রমাণ করে বাংলাদেশ কেবল খেলোয়াড় তৈরিতেই নয়, খেলাকে সুষ্ঠু ও পেশাদারভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রেও বিশ্বমানের শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।

বর্তমান ভারতের টেস্টেও তাঁর প্রতিটি সিদ্ধান্ত ক্রীড়া মহলে কৌতূহল ও গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নির্ভুলতা, আধুনিক প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার এবং শান্ত প্রতিভার মিলেই তাঁকে আজকের অবস্থানটি এনে দিয়েছে—আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের এক উজ্জ্বল প্রতিনিধিত্ব।

পোস্টটি শেয়ার করুন