সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৫শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বটতলার শিশুদের নতুন নাটক ‘ডাকাত হালুম চিৎপটাং’ জাঁকজমকভাবে মঞ্চে

রাজধানীর বাংলাদেশ মহিলা সমিতির নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে শনিবার জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশনায় মঞ্চস্থ হয়েছে নাট্যদল বটতলার শিশু বিভাগের নতুন প্রযোজনা ‘ডাকাত হালুম চিৎপটাং’। এটি শিশুদের অভিনয়ের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্স ‘অভিনয়ে হাতেখড়ি’-এর ষষ্ঠ আবর্তনের সমাপনী প্রদর্শনী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

শিশুদের নিয়ে চলা এই উদ্যোগের মূল পরিকল্পনা—চার মাসের নিবিড় প্রশিক্ষণ এবং পরবর্তী কয়েক মাসের মহড়ার সমন্বয়ে তৈরি হওয়া নাটকটি দর্শককে বিনোদন দেয়ার পাশাপাশি শিশুদের কৌতূহল ও সৃজনশীলতা উজ্জীবিত করেছে। মঞ্চে শিশুরা তাদের সহজাত প্রতিভা ও আত্মবিশ্বাস দেখিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

নাটকটির আর্থ-আধার হচ্ছে জার্মান শিশুসাহিত্যিক ওটফ্রিড প্রুশলারের কালজয়ী রচনা ‘ডাকাত হটজেনপ্লটজ’। দেশীয় প্রেক্ষাপটে এটি ‘ডাকাত হালুম চিৎপটাং’ শিরোনামে রূপ দিয়েছে শাম্মি আক্তার, এবং নির্দেশনা দিয়েছেন নাট্যব্যক্তিত্ব হুমায়ূন আজম রেওয়াজ। কাহিনি ও চরিত্রের হাস্যরসাত্মক দিকগুলো শিশু শিল্পীদের স্বাভাবিক অভিনয়ভঙ্গি ও শৈল্পিক দক্ষতায় সফলভাবে ফুটে উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ধরণের প্রযোজনা কেবল মঞ্চীয় বিনোদনই নয়, শিশুদের মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক বিকাশেও সহায়ক।

সফল প্রদর্শনীর পর অংশগ্রহণকারী শিশুদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদপত্র ও বিশেষ উপহার তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের অষ্টম এভারেস্ট বিজয়ী নুরুন্নাহার নিম্মি, প্রখ্যাত আয়রনম্যান মোহাম্মদ শামসুজ্জামান আরাফাত, লেখক ও গবেষক সামীও শীশ এবং কবি সাকিরা পারভীন সুমা। বটতলার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মিজানুর রহমান ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্য শিল্পী লায়েকা বশীরও শিশুদের উৎসাহ দিতে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। অতিথিরা শিশুদের এই নিয়মিত সৃজনশীল প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

বটতলার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘ডাকাত হালুম চিৎপটাং’ ভবিষ্যতেও বিভিন্ন মঞ্চে নিয়মিতভাবে উপস্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে। শিশুদের থিয়েটার চর্চা ও শৈল্পিক পরিবেশ গড়ে তোলাই তাদের বিশেষায়িত স্কুল ‘এক্টরস স্টুডিও’ পরিচালিত কর্মশালার লক্ষ্য। এর আগেও ‘অভিনয়ে হাতেখড়ি’ কার্যক্রমের অধীনে বটতলা সফলভাবে ‘গুপীবাঘা’, ‘গালিভারস ট্রাভেলস’, ‘আমরা সবাই রাজা’, ‘হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা’ ও ‘ফাংসাং’-এর মতো শিশুতোষ নাটক মঞ্চে এনেছে।

সংগঠকরা মনে করেন, মোট মিলিয়ে প্রায় ছয় মাসের প্রস্তুতি-প্রশিক্ষণের ফল এই মঞ্চায়ন, যা নতুন প্রজন্মের শৈল্পিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও শিশুদের সাবলীল অভিনয় পুরো মিলনায়তনকে উৎসবমুখর করে তুলেছিল। বিশিষ্টজনরা আশাবাদ প্রকাশ করেছেন যে, বটতলার এই ধারাবাহিক উদ্যোগ ভবিষ্যতে দেশের নাট্যাঙ্গনে আরও দক্ষ ও সংবেদনশীল শিল্পী দেবে। নাট্যদলও ঘোষণা করেছে—শিশুদের মেধা ও মনন বিকাশের জন্য এমন আয়োজন অব্যাহত রাখা হবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন