আন্তর্জাতিক বাজারে মে মাসে সামগ্রিক খাদ্যপণ্যের দাম সামান্য কমেছে, কিন্তু কিছু মূল পণ্যের উঠতি দামের কারণে বাজারে চাপ রয়ে গেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)-এর মাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোজ্যতেলের দর কিছুটা নামায় খাদ্যের মোট সূচক কিছুটা শান্তি পেয়েছে। মে মাসে বিশ্ব খাদ্যমূল্য সূচক গড়ে ১৩০.৮ পয়েন্ট ছিল, যা এপ্রিলের সংশোধিত সূচকের তুলনায় ০.২ শতাংশ কম। তবু এটি গত তিন বছরের মধ্যে এখনও উচ্চ স্তরের কাছাকাছি এবং গত বছরের মে মাসের তুলনায় ২.৯ শতাংশ বেশি। (সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি ও রয়টার্স)
শস্যপণ্যে মে মাসে মূল্যবৃদ্ধি দেখা গেছে—মোট শস্য সূচক এপ্রিলের তুলনায় ২.৬ শতাংশ বাড়েছে। বিশেষত গমের দাম টানা চতুর্থ মাস বাড়ছে; মে মাসে গমের দাম ৩.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রধান রফতানিকারক দেশগুলোতে প্রতিকূল আবহাওয়ার আশঙ্কা, জ্বালানি ও সার খরচের উচ্চতা এসব বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে চলছে। এশিয়ার শীর্ষ রফতানিকারক দেশগুলোর আবহাওয়া নিয়ে উদ্বেগ ও পরিবহন খরচ বাড়ায় চালের দামও চাপ পায়, আর বৈশ্বিক চাহিদি ও সরবরাহ ঘাটতির ফলে ভুট্টার দামও বেড়েছে।
চিনির বাজারে মে মাসে তীব্র অস্থিরতা হয়েছে—আন্তর্জাতিক চিনির সূচক এক যাবৎত তিনটি ধাক্কার মতো লাফ দিয়ে ৭.৫ শতাংশ বেড়েছে। এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে চিনি উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ ইস্যু ব্রাজিলে আকর্ষণীয় পরিবর্তন—আখের অধিকাংশ অংশ এখন ইথানল (জৈব জ্বালানি) উৎপাদনে ব্যবহারের ঘোষণায় সরবরাহ কমতে পারে, এমন আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে ভোজ্যতেল ফেবছর চলায় প্রথম বড় পতন লক্ষ্য করা গেছে; ভোজ্যতেলের সূচক মে মাসে ৪.৬ শতাংশ নেমেছে। প্রধানত পাম ও সয়াবিন তেলের আন্তর্জাতিক বাজার দুর্বল থাকায় এই প্রভাব দেখা দিলেও সরিষা ও সূর্যমুখীর তেলের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবু হরমুজ প্রণালীর উত্তেজনার কারণে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ভোজ্যতেলের গড় দাম এখনো গত বছরের তুলনায় ২০ শতাংশেরও বেশি উঁচুতে রয়েছে।
মাংসের দাম সামান্য বাড়লেও দুগ্ধজাত পণ্যের বাজার মোটের ওপর স্থিতিশীল রয়ে গেছে। এফএও কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে বিশ্ব খাদ্যবাজার এখন আবহাওয়া ও জ্বালানি-সারের খরচের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ নৌ-পরিবহন রুটে উত্তেজনা বাড়লে সারের সরবরাহে ফাঁক পড়ে মূল্য আরও বাড়তে পারে।
সংস্থাটি পূর্বাভাস দিয়েছে যে ২০২৬-২৭ মৌসুমে বিশ্বব্যাপী খাদ্যশস্য উৎপাদন প্রায় ২ শতাংশ কমে ২৯৮ কোটি টনে নেমে আসতে পারে, যা পূর্ববর্তী মৌসুমের রেকর্ড উৎপাদনের তুলনায় কম। যদি এমন উত্পাদনহ্রাস ঘটে, তবে গমের বাজার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।