মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদিতে এক সপ্তাহের বিশেষ অভিযানে ৭ হাজার ৭৬০ প্রবাসী গ্রেপ্তার

সৌদি আরবে গত এক সপ্তাহজুড়ে অন্যায় আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মোট ৭ হাজার ৭৬০ জন প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এই অভিযানগুলো গত ২৮ মে থেকে ৩ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন প্রান্তে পরিচালিত বিশেষ নিরাপত্তা কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে চালানো হয়েছিল, এবং সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ রোববার সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিকে উদ্ধৃত করে এই তথ্য প্রকাশ করে।

আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৪ হাজার ৬৯০ জনকে তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতদের অপরাধভিত্তিক ভাগ পৃথকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে—আবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৪ হাজার ৬৬০ জন, সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের দায়ে ২ হাজার ৫৭৪ জন এবং শ্রম আইন লঙ্ঘনের কারণে ১ হাজার ১২৬ জনকে আটক করা হয়।

সীমান্ত পারাপারে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে আটক হওয়া সংখ্যা আলাদা করে দেখা গেলে ১ হাজার ১৮৪ জনকে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে প্রবেশের সময় ধরা পড়ে। তাদের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশই ইথিওপিয়ার নাগরিক এবং ২৮ শতাংশই ইয়েমেনি; বাকি অংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক।

শুধু অনুপ্রবেশকারীরাই নয়, অপরাধীদের সহযোগিতা বা সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। অবৈধভাবে সৌদি ত্যাগের চেষ্টা করায় ২৫ জন এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের আশ্রয় বা পরিবহন সুবিধা দেওয়ার অভিযোগে আরও ১৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এই সব ঘটনাসহ বর্তমানে মোট ২১ হাজার ৭৭৪ জন প্রবাসী—যাদের মধ্যে ২০ হাজার ৪৫৫ জন পুরুষ এবং ১ হাজার ৩১৯ জন নারী—বিভিন্ন অপরাধে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি ১৪ হাজার ৪৯৫ জনকে প্রয়োজনীয় ট্রাভেল ডকুমেন্ট সংগ্রহের জন্য তাদের দেশের কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে।

সৌদি আরবের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৪৮ লাখ, যার একটি বড় অংশই বিদেশি শ্রমিক। দীর্ঘদিন ধরে দেশটি অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে এবং নিয়মিত এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করে থাকে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারে সহযোগিতা প্রদানের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির বন্দোবস্ত রেখেছে—এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।

অভিযান সম্পর্কে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে এই ধরনের ধরপাকড় এবং উদ্যোগ আরও চালানো হবে এবং প্রবাসী ও নাগরিকদের আইনি নিয়ম-কানুন মেনে চলার জন্য সতর্ক করা হচ্ছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন