রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে উড়ন্ত সূচনা করল যুক্তরাষ্ট্র

ঘরের মাঠে কো-হোস্ট হিসেবে ২০২৬ বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র — এবং সেটা করে ফেললেন তারা জোরালো এক জয় দিয়ে। ক্যালিফোর্নিয়ার সোফি স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘ডি’-র প্রথম ম্যাচে প্যারাগুয়েগুলোকে ৪-১ গোলে হারিয়ে মাউরিসিও পচেত্তিনোর শিষ্যরা টুর্নামেন্টে উড়ন্ত সূচনা করেছে।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রাখে যুক্তরাষ্ট্র। মাত্র সপ্তম মিনিটে ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিক ও ওয়েস্টন ম্যাককেনির চমৎকার ওয়ার্কিংয়ের পর প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার দামিয়ান বোবাদিলার অসাবধানতায় নিজের জালে বল ঢুকে যায় — ম্যাচের প্রথম গোলটি আত্মঘাতী হিসেবে রেকর্ড হয়।

২৮ মিনিটে পুলিসিকের পথ দেওয়ার ওপর বালোگان বল জালে পাঠালেও তা অফসাইডের কারণে VAR-এ বাতিল করা হয়। তিন মিনিট পরই ৩১তম মিনিটে পুলিসিকের রক্ষণভেদী পাস ধরে বালোگان নিজের প্রথম গোলে দলকে ২-০ এগিয়ে দেন। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে (৪৫+৫) মালিক টিলম্যানের থ্রু-পাসে আবারও বালোگان বল জালে পাঠিয়ে হ্যাটট্রিকের প্রাককেন্দ্রে নিজেদের এগিয়ে নেন — প্রথমার্ধ পরিসম্পন্ন হয় ৩-০ ব্যবধানে।

দ্বিতীয়ার্ধ শুরুতেই একটি বিতর্কিত মুহূর্ত আসে: ৫০তম মিনিটে রেফারি প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের অধিনায়ক টিম রিমকে মিগুয়েল আলমিরনকে ফাউল করার কারণে হলু কার্ড দেখান। কিন্তু VAR পর্যালোচনায় দেখা যায় আলমিরন নিজেই ডাইভ করেছেন; তাই রিমের কার্ড বাতিল করে আলমিরনকে ডাইভিংয়ের দায়ে হলুদ দেখানো হয়।

৭৩ মিনিটে প্যারাগুয়ে ফিরে আসে। গোলরক্ষকের দীর্ঘ লম্বা পাস থেকে শুরু হওয়া আক্রমণে এনসিসোর বাড়ানো বলে বদলি খেলোয়াড় মাউরিসিও একটি দারুণ কোনাকুনি শটে বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান ৩-১ করেন এবং আশা ফেরায় তাদের।

তবে নয়ন্তা সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ফের নাটকীয়তা উপহার দেয়। মূল সময়ের অতিরিক্ত সময়ের এক মুহূর্তে ফ্রিম্যানের নিখুঁত পাস পেয়ে ডি-বক্সের কিনারে জিওভানি রেইনা বল নিয়ন্ত্রণ করে বাঁকা এক শটে প্যারাগুয়ের জালে বল জড়ান — যা দলের চতুর্থ ও আরেকটি নিশ্চিত জয় এনে দেয়।

এই খীতাবে উজ্জ্বল জয়ে পচেত্তিনো দলে নিজেদের গ্রুপ পর্বে শক্তিশালী দাবিদারের ভূয়সী পরিচয় রেখে দিলেন। গোলবাজারে তৎপর বালোگان, দলের সামঞ্জস্যপূর্ণ আক্রমণ ও VAR-নির্ভর মুহূর্তে নিয়ন্ত্রিত সিদ্ধান্ত—সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই জয় তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে এবং গ্রুপ পর্বে আগামির ম্যাচগুলোতে তারা লেখাপড়া আরও কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা দেবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন