রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টরন্টোতে বিক্ষোভ: ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিষিদ্ধের দাবি

কানাডার টরন্টোর স্টেডিয়ামের কাছে বিশ্বকাপ উদ্বোধনী ম্যাচ শুরুর আগেই একটি প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে কানাডার ম্যাচের আগে গার্ডিনার এক্সপ্রেসওয়ের পাশে একদল বিক্ষোভকারী ফিফার সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্কের তীব্র নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে ইসরায়েলকে নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছেন। তারা বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক লোগো ঢাকা দিয়ে ‘ফিফা থেকে ইসরায়েলকে বের করে দাও’ লেখা একটি বিশাল ব্যানার ঝুলিয়ে রেখেছিল।

আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র ফয়সাল ইব্রাহিম বলেছেন, তারা ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের নৃশংস কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিতে চাইছে এবং ফিফার কার্যক্রমকে এতে সহায়তাকারী হিসেবে অভিযুক্ত করেছেন। তার অভিযোগ, ইসরায়েলি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অবৈধভাবে দখলকৃত পশ্চিম তীর ও সিরিয়ার ভূখণ্ডে নিয়মিতভাবে ম্যাচ আয়োজন করে এবং ফিফা এসব কার্যক্রমে চোখ বন্ধ করে দেখছে বা এমনকি সেগুলো সম্প্রচারও করছে।

বিক্ষোভকারীরা আরও একটি দাবিও তুলেছেন—২০২৪ সালের শেষের দিকে গাজায় আটক করা বিশিষ্ট ফিলিস্তিনি চিকিৎসক হুসাম আবু সাফিয়ার দ্রুত মুক্তি দেওয়া হোক।

প্রতিবাদে অংশ নেওয়া অনেকে বলেছে, ফিফার নির্বিকার বা নীরব থাকা মানবাধিকার-উন্মুখ আরও বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে। বাস্তবে, গত মার্চে ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের করা একটি অভিযোগের প্রেক্ষিতে ফিফা জানিয়েছিল যে পশ্চিম তীরে খেলা চালিয়ে যাওয়া ইসরায়েলি ক্লাবগুলোর বিরুদ্ধে তারা কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে না। তখন ফিফা আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে পশ্চিম তীরের আইনি অবস্থান অমীমাংসিত থাকতে উল্লেখ করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছিল।

অন্যদিকে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় চলমান সামরিক অভিযানের পর থেকে সেখানকার পরিস্থিতি ঘন ঘন জনজীবন ও মানবাধিকার বিষয়ক শঙ্কা তোলেছে। সংবাদে বলা হয়েছে, এ সংঘাতে ৭২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং এলাকায় মারাত্মক দুর্ভিক্ষ ও অমানবিক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। জাতিসংঘের কিছু বিশেষজ্ঞ ইতিমধ্যেই ফিফা ও উয়েফার কাছে ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

টরন্টোর রাস্তায় হওয়া এই বিক্ষোভ চূড়ান্তভাবে ফিফার ওপর নতুন আন্তর্জাতিক ভাবে চাপ সৃষ্টি করেছে—বিশেষত বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে নীতি ও নৈতিকতার প্রশ্ন তুলে। আন্দোলনকারীরা বলছেন, তারা শুধু প্রতিবাদই করছে না, একই সঙ্গে ফুটবল প্রশাসনের নীরবতা ভাঙতে চাইছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন