সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চে বুয়ালেমের হেড, সুইজারল্যান্ডকে রুখে দিল কাতার

ফুটবল বিশ্বকাপে বড় ধাক্কা দিয়েছে কাতার। সান্তা ক্লারার মঞ্চে গত বিশ্বকাপের আয়োজক দেশটি শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় শক্তিশালী সুইজারল্যান্ডকে ১-১ গোলে রুখে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে পয়েন্ট বাঁচিয়ে নিয়েছে।

ম্যাচের ১৭তম মিনিটে সুইজারল্যান্ডকে এগিয়ে দেয় ব্রিল এমবলো। ডি-বক্সে রেমো ফ্রেউলারকে ফাউল করার কারণে কাতারের গোলরক্ষক মাহমুদ আবুনাদাকে রেফারি হলুদ কার্ড দেখান এবং পেনাল্টি নির্দেশ করেন—স্পট কিক থেকে এমবলো কোন ভুল না করে গোল করেন।

পেনাল্টি দেওয়ার পরও কাতারের গোলরক্ষক আবুনাদা ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন; পরবর্তী সময়ে একের পর এক সেভ করে দলকে টিকিয়ে রাখেন। পুরো ম্যাচ জুড়েই সুইজারল্যান্ড বলের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে রেখেছে—কাজেই তারা মোট বলের প্রায় ৭০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ আর ২৬টি শট নেয়, যার মধ্যে ৭টি লক্ষ্যে গিয়ে ঠেকেছিল।

যেটাই মনে হচ্ছিল সুইসদের জন্য জয় নিশ্চিত করবে, ঠিক সেই সময় যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে কাতার পালটা আক্রমণ করে। লেফট ব্যাক হোমাম আহমেদের নিখুঁত এক ক্রস থেকে লাফিয়ে গিয়ে হেড করে জালের কোণে বল জড়ান অভিজ্ঞ সেন্টার ব্যাক বুয়ালেম খুখি; সেই গোলে কাতার না শুধু হার এড়ায়, বরং নিজেদের নামে বিশ্বকাপে প্রথম পয়েন্টও লেখে রাখে।

এর আগে খেলার অতীত ইতিহাস ছিল কাতারের পক্ষে কষ্টসাধ্য—গত বিশ্বকাপে তারা খেলেছিল তিনটি ম্যাচ, সবগুলোই হেরেছিল। তাই এই এক পয়েন্ট কাতারের জন্য রাজনৈতিক নয়—প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আত্মবিশ্বাস আনার বড় অর্জন।

একই গ্রুপের অন্য ম্যাচে কানাডা ও বসনিয়ার ম্যাচ ড্র হওয়ায় এখন ‘বি’ গ্রুপের সব চারটি দলেরই পয়েন্ট সমান একটি করে। এই ফলাফলের পর কাতারকে এখন সবচেয়ে আত্মবিশ্বাসী দল হিসেবে দেখা হচ্ছে, আর সুইজারল্যান্ডের কোচ মুরাত ইয়াকিনকে নিশ্চিতভাবেই হতাশার মোকাবিলা করতে হয়েছে। শেষ মুহূর্তে গোল খাওয়া সুইসদের জন্য বড় এক শিক্ষা হয়ে থাকবে—স্পষ্ট সুযোগকে রক্ষা করে জেতে যাওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

পোস্টটি শেয়ার করুন