বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গোলাম মাওলা রনি: ‘ইউনূস অ্যান্ড কোম্পানি’র একাংশ রূপ বদলিয়েছে, অন্য অংশ পালিয়েছে

সাবেক সংসদ সদস্য ও কলামিস্ট গোলাম মাওলা রনি সাম্প্রতিক একটি ফেসবুক ভিডিও বার্তায় তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ১৮ মাসের স্বল্পকালীন সরকারের সময় দেশের একটি শক্তিশালী ক্ষমতাকেন্দ্রিক ‘বাণিজ্যকেন্দ্র’ গড়ে ওঠে। তিনি অভিযোগ করেছেন, যারা তখন ক্ষমতার কেন্দ্রে থেকে অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন, তারা একত্র হয়ে গঠিত একটি ক্লিক—যাকে তিনি ‘ড. মুহাম্মদ ইউনূস অ্যান্ড কোম্পানি’ বলেই অভিহিত করেছেন। ভিডিওতে রনি এই গোষ্ঠীর কার্যকলাপ, আর্থিক লেনদেন ও বর্তমান অবস্থার নানা কড়াভাবে তুলে ধরেন।

রনি বলছেন, ওই ‘কোম্পানি’ মূলত কয়েকটি প্রভাবশালী অংশে বিভক্ত ছিল। প্রথম অংশে ছিল শীর্ষস্তরের ব্যবসায়ী গোষ্ঠী, যারা ক্ষমতার সুযোগ নিয়ে বড় সুবিধা ভোগ করেছে। দ্বিতীয় অংশে ছিলেন আমলাতন্ত্র, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সামরিক প্রশাসনের কিছু সদস্য—অনেকে চট্টগ্রাম ভিত্তিক বা ড. ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাংক পরিবারের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্কযুক্ত। তৃতীয় অংশে ছিল এনজিও ও ব্যাংকিং খাতের একটি চক্র, যারা নানা জরিপ বা রিপোর্টের আড়ালে কোটি কোটি টাকা সংগ্রহ ও অপব্যবহার করেছে বলে রনি দাবি করেন।

অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে রনি প্রশ্ন তুলেছেন—তিনি বলেন, আগের সরকারের সময় যেখানে বৈদেশিক দেনা ছিল প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার, ইউনূস সরকারের ১৮ মাসে সেটি বেড়ে প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। অতিরিক্ত প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার বা আড়াই লাখ কোটি টাকার খরচ কীভাবে ও কোথায় করা হয়েছে তা স্পষ্ট নয়, এমন প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বড় ব্যবসায়ীদের ঋণ মওকুফ ও রিশেডিউলের মাধ্যমে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সুবিধা প্রদানের নামে রাষ্ট্রের বিপুল সম্পদ অপব্যবহৃত হয়েছে।

রনি আরও বলেন, উন্নয়নপ্রকল্প (এডিপি) ও অন্যান্য প্রকল্প মিলিয়ে গত দু’বছরে হাতে খরচ হিসেবে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লক্ষ কোটি টাকা ব্যয় দেখানো হলেও বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো বড় উন্নয়ন কাজ বা পাবলিক ওয়ার্কস নেই। তিনি এটাকেও আর্থিক লুটপাটের অংশ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

ভিডিওর শেষাংশে রনি এই গোষ্ঠীর নৈতিক অবক্ষয়ের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য, ক্ষমতায় থাকা কালে এই কোম্পানির শীর্ষ ব্যক্তিরা প্রতিপক্ষকে নাজেহাল ও অপমান করলেও এখন তাদের নৈতিক জাগরণ বা ‘মোরাল কারেজ’ শূন্যের কোলে নেমে গিয়েছে। তিনি বলেন, এ কারণেই এখন ‘ইউনূস অ্যান্ড কোম্পানি’র একটি বড় অংশ তাদের রূপ বদলিয়ে বর্তমান সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে নিয়েছে, কেউ কেউ নিজেদের পরিচয় লুকিয়ে নিয়েছে এবং বাকি অনেকে বিচার এড়াতে দেশে থেকে পালিয়ে গেছে।

রনির এ সংক্রান্ত দাবিগুলো সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। তিনি যে অভিযোগগুলো উত্থাপন করেছেন সেগুলোর প্রকৃতি ও পরিধি নিয়ে রাজনৈতিক, প্রশাসনিক এবং অর্থনৈতিক পর্যায়ে আরও তদন্ত-জিজ্ঞাসা দরকার বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা।

পোস্টটি শেয়ার করুন