বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রথমবারের মতো দেশে ‘মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল’ গড়ার সিদ্ধান্ত

অর্থনৈতিক গতিশীলতা বাড়াতে সরকার প্রথমবারের মতো দেশে একটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল (ফ্রি ট্রেড জোন) গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) সকালে সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় ও অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি এই তথ্য সাংবাদিকদের জানান।

ড. নাসিমুল গনি বলেন, প্রস্তাবিত অঞ্চলে প্রচলিত কাস্টমস সংক্রান্ত কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে না এবং ব্যবসায়ীরা শুল্কমুক্ত সুবিধা উপভোগ করবেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী মাতারবাড়ীর গভীর সমুদ্রবন্দর ও চট্টগ্রাম বন্দরের নিকটবর্তী প্রায় ৬০০ একর জমিতে এই বিশেষ বাণিজ্যিক অঞ্চল স্থাপন করা হবে, যা ক্ষেত্রবিশেষে শিল্প ও রফতানিতে নতুন গতি আনবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে।

বৈঠকে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ‘চীন অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল’ (CEIZ) প্রতিষ্ঠার তত্ত্বাবধানে স্পেশাল পারপাস কোম্পানির সঙ্গে ভূমি ইজারা ও উন্নয়ন চুক্তি করার নীতিগত অনুমোদনও দেয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ দেখা হচ্ছে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং স্থানীয় শিল্পে কাঁচামালের যোগান সহজ করার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও হার্মুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় এলএনজি ও জ্বালানি তেল আমদানিতে যে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে, সেটিও বৈঠকের এক গুরুত্বপূর্ন আলোচ্যবিষয় ছিল। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রচলিত জ্বালানি আমদানি ব্যবস্থাগুলো পর্যালোচনার সময় এসেছে এবং বর্তমান চাহিদা মেটাতে সরকার স্পট মার্কেট থেকে তেল ও গ্যাস সংগ্রহ করছে। তিনি আরও জানান, ফলস্বরূপ জ্বালানি পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার দিকে যাচ্ছে।

এর পাশাপাশি বৈঠকে রাশিয়ায় থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। সরকারের এই বহুমুখী উদ্যোগগুলো দেশের শিল্পায়ন দ্রুততর করবে এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে—এটাই প্রত্যাশা।

মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন শুরু হলে বিনিয়োগ, রপ্তানি ও কৃষিক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, ফলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে নতুন ধারা দেখা দিতে পারে।

পোস্টটি শেয়ার করুন