বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা: আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি হামলা ‘অপ্রয়োজনীয়’

লেবাননের হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অভিযানের কৌশল নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনের সময় মঙ্গলবার তিনি বলেন, কোনো গ্রুপকে খুঁজে বের করতে প্রতিবারই আবাসিক ভবনগুলোতে বোমা হামলা চালানোর প্রয়োজন ছিল না — কারণ সেসব ভবনে সাধারণ মানুষেরাও থাকে এবং সবাই হিজবুল্লাহ নয়।

ট্রাম্প আরও বলেন যে এসব হামলা অনেক প্রাণহানি ঘটিয়েছে এবং এমন কৌশল যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের সম্ভাব্য শান্তি চুক্তিকে ঝুঁকির মুখে ফেলা ছাড়াও পরিস্থিতি উস্কে দিতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে জড়িত এবং এই সংঘাত নতুনভাবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নজর কেড়েছে।

ট্রাম্পের মন্তব্য আসে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে। যদিও ট্রাম্প বারবার বলেছেন যে তাদের মধ্যে ব্যক্তিগতভাবে ‘‘চমৎকার সম্পর্ক’’ রয়েছে, তারপরও তিনি নেতানিয়াহুকে আরও দায়িত্বশীল হতে বলেন—বিশেষ করে লেবাননের পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে।

প্রেসিডেন্টের ওই কথার কয়েক মুহূর্তের মধ্যে হোয়াইট হাউসের একটি অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট একই বক্তব্যের ভিডিও পোস্ট করে। কেন সেই ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে তা নিয়ে হোয়াইট হাউস বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা না দিলেও তারা জোর দিয়ে বলে দেয়, নেতানিয়াহুর সঙ্গে প্রেসিডেন্টের শক্তিশালী সম্পর্ক আছে এবং ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) তাদের ‘‘দারুণ সহযোগী।’’

ট্রাম্প ওই চুক্তি সম্পর্কে বলেন যে এটি তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখবে। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা সমর্থন জানিয়ে বলেন, ইসরায়েলের জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতো বড় বন্ধু এবং শান্তির যোদ্ধা খুব কমই আছে।

বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, সাধারণত কোনো আমেরিকান প্রেসিডেন্টকে সামরিক কৌশল নিয়ে এভাবে সরাসরি সমালোচনা করতে দেখা যায় না—বিশেষত এমন সময় যখন দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক Historically ঘনিষ্ঠ। তবে ট্রাম্পের সমালোচনা ও নেতানিয়াহুর সঙ্গে টানাপোড়েন সাম্প্রতিককালেই বাড়ছে, প্রধানত ইরান-বিষয়ক চুক্তি ও এলাকা নিয়ে বিভিন্ন কূটনৈতিক রায়ের কারণে।

এদিকে গাজায় চলমান সংঘর্ষ ও হামলার জন্য আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেখানে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৭৩ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং তাদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক। ইসরায়েল বারবার দাবি করেছে যে তারা বেসামরিক জনগণকে লক্ষ্য করে না, বরং হামাস ও হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা জনসাধারণকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে।

ট্রাম্পের সমালোচনার পরও এখন পর্যন্ত ইসরায়েল তাদের সামরিক কৌশলে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আনবে কিনা তার স্পষ্ট কোন চিহ্ন দেখা যায়নি। ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি দূতাবাস বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

সংক্ষেপে, ট্রাম্পের বক্তব্যে দেখা যাচ্ছে—একদিকে তিনি ইসরায়েলের কৌশল ও বিস্তৃত হতাহতের বিরুদ্ধে উদ্বেগ জানাচ্ছেন, অন্যদিকে তিনি ইসরায়েলের প্রতি সামগ্রিক সমর্থন ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের গুরুত্বও বজায় রেখেছেন। এই দ্বিঘাতিক সুরই এখন কূটনৈতিক মঞ্চে আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন