শুক্রবার, ১৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জনগণের অর্থ বিদেশ পাঠতে দেব না: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘‘জনগণের টাকা কোনোভাবেই বিদেশে পাচার হতে দেব না; তা জনগণের কল্যাণে ও জীবনমান উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।’’ বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণশেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, কয়েক দশক ধরে একটি অংশের লোকজন দেশের অর্থপাচারে লিপ্ত ছিল; তারা আবার মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তি ছড়ায়—‘ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডের টাকা কোথা থেকে আসবে’ বলে প্রশ্ন তোলে। এসবের উদ্দেশ্যে তিনি সরাসরি সতর্ক করে বলেন, ‘‘আমরা জনগণের টাকা আর পাচার হতে দেব না। জনগণের টাকা দিয়ে জনগণের জন্য, দেশের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করা হবে। ইনশাআল্লাহ টাকার কোনো অভাব হবে না।’’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যারা এই দেশ থেকে অর্থ পাচার করেছে বা পাচার করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবেন তারা সকলে হয়রানিমুক্ত নয়। তিনি সবাইকে চোখ-কান খোলা রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সম্মিলিত পরিশ্রমে জনগণের অর্থ ফিরিয়ে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত হাজার হাজার চা-শ্রমিক, নারী-পুরুষ একত্রে সরকারের নীতিকে সমর্থন জানিয়ে ‘হ্যাঁ’ করে জবাব দেন। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে তিনি বলেন, যখন দেশের মানুষ গণতন্ত্র রক্ষার জন্য সংগ্রাম করে তুলেছিল, তখন অনেক নেতাই দেশ ছাড়ে গিয়েছিলেন; কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া মানুষকে রেখে কোথাও যাননি।

তারেক রহমান বলেন, ‘‘আমাদের একটাই কাজ — বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা। আমাদের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমিকের হাতে রূপান্তরিত করতে হবে, তবেই দেশের ভাগ্য বদলানো সম্ভব।’’ তিনি নারীদের স্বাবলম্বী করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, নারীদের অংশগ্রহণ ছাড়া উন্নয়ন অসম্ভব।

বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানের তাৎপর্য তুলে ধরে জানান, নির্বাচনী প্রচারণার সময় দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আজ তিনি সিলেট অঞ্চলে এসে এই কার্যক্রমের সূচনা করেছেন। তিনি আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে বলেন, যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা রাখতে পেরেছেন।

আসন্ন এক বছরের মধ্যে চা-শ্রমিকসহ প্রায় সকল নারীশ্রমিককে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এছাড়া চা-শ্রমিকদের আবাসন সমাধানে দুই লাখ টাকা করে অনুদান, শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য শিক্ষা বৃত্তি, প্রতিবন্ধীদের আর্থিক সহায়তা ও অন্যান্য সুবিধা দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন। অনুষ্ঠানে স্টেজে তিনজনকে দুই লাখ টাকার চেক হাতে তুলে দেন তিনি এবং প্রশাসনের মাধ্যমে বাকিদেরও টাকা পৌছে দেয়া হবে জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, সরকার গঠন করার এক সপ্তাহের মধ্যে ১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করা হয়েছে এবং আগামী এক বছরের মধ্যে ৪০ লাখ কৃষককে কৃষক কার্ড প্রদান করা হবে। প্রতিটি উপজেলায় কিডনি ডায়ালিসিস মেশিন আনা হবে এবং উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা চালু আছে।

অনুষ্ঠানে ১০ জন নারীর হাতে সরাসরি ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি কম্পিউটারে বাটন টিপে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের তৃতীয় পর্যায়ের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে তিনি একটি জাম ও একটি কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপণ করেন।

সমাজকল্যাণ ও মহিলা-শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও অন্যান্য দলের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও ফ্যামিলি কার্ডপ্রাপ্ত কয়েকজন নারীর বক্তব্যও অনুষ্ঠানভুক্ত ছিল। এছাড়া ভিডিওকনফারেন্সে অংশ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

সমাপ্তিতে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের উন্নয়নের কাজে অংশ নিতে আহ্বান করেন এবং বলেন, ‘‘আজকের এ আনন্দের দিনে আমাদের প্রতিজ্ঞা হবে — কাজ গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’’

পোস্টটি শেয়ার করুন