ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনের সমাপ্তির পর অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আমেরিকা ইরানের অনেক টাকা আটকিয়ে রেখেছে এবং সেই অর্থ ইরানকে ফেরত দিতে হবে। তিনি বলেন, “আমরা ওদের প্রচুর টাকা নিয়েছি, এবং ওদের সেই টাকা আমাদের কাছেই আছে।”
ট্রাম্প আরও বলেন, এটি আমাদের টাকা নয়, মূলত তাদেরই অর্থ যা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আটকে দেওয়া হয়েছিল। তিনি সর্তক করে বলেন, যদি আমরা তা ফেরত না দিই তাহলে ভবিষ্যতে কেউ ডলারে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হবে না।
ট্রাম্পের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে প্রেস রিলিজে জানানো হয়েছে, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে একটি ১৪ দফার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। ওই চুক্তির একটি মূল শর্ত হলো—লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধ করা এবং হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া। চুক্তি এক ঝাঁক সীমাবদ্ধতা ও প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন আলোচনারও পথ তৈরি করেছে।
চুক্তি অনুযায়ী, আমেরিকা আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে মিলিত হয়ে একটি “সুনির্দিষ্ট ও পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে প্রণীত পরিকল্পনা” তৈরি করবে। লক্ষ্য হচ্ছে ইরানের পুনর্গঠনে সহায়তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠন।
তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র একপক্ষীয়ভাবে কোনো অন্বিত্ত তহবিল দেবে না। তার ভাষ্য, “আমরা নিজে থেকে কোনো টাকা দেব না। ওরা যদি ভালোভাবে চলে, তবেই এই প্রশ্ন উঠবে। ওরা সব শর্ত মেনে চললে, কেউ যদি সেখানে বিনিয়োগ করতে চায়, বিনিয়োগ করতে পারবে।”つまり—সবার জন্য শর্তাবলী মেনে চলা বাধ্যতামূলক।
ট্রাম্প আরও বলেছিলেন, এইসব বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়েই তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ইরানের কাছে ইতিমধ্যেই প্রচুর আর্থিক ক্ষতি হয়েছে—‘বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ওদের কিন্তু ইতোমধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি ক্ষতি হয়ে গেছে।”
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে ট্রাম্প জানান, ইরান যদি শর্ত মেনে চলা শুরু করে তাহলে দ্রুতই নতুন কিছু ঘটবে। ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে ইরানের ওপর থেকে ‘সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা’ তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। এই নিষেধাজ্ঞার মধ্যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজোলিউশন, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) বোর্ড অফ গভর্নরসের রেজোলিউশন এবং যুক্তরাষ্ট্রের একতরফাভাবে আরোপিত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সকল নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে।
সংক্ষেপে, ট্রাম্প বলছেন—ইরানের আটকে রাখা অর্থ ফেরত দেওয়া হবে, কিন্তু সেটি সম্পূর্ণভাবে ইরানের সম্মতি ও শর্ত পালন করার ওপর নির্ভরশীল। ওই শর্ত পূরণ হলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহায়তার পথ খুলে যাবে।