শুক্রবার, ১৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে চট্টগ্রাম-মাতারবাড়িতে দুই মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল: মন্ত্রিপরিষদ সচিব

মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গণি বলেছেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার প্রথমবারের মতো দুইটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল (ফ্রি ট্রেড জোন) গঠন করছে। চট্টগ্রাম বন্দরের সামান্য দূরে এবং মাতারবাড়ি বন্দরের কাছে মোট প্রায় ৬০০ একর জমি নিয়ে এই দুটি শুল্কমুক্ত অঞ্চল করা হবে।

বুধবার (১৭ জুন) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত অর্থনীতি বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার ১৮তম সভা ও ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘‘আপাতত দু’টি জায়গায় মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল স্থাপনের প্রস্তাব অর্থনৈতিক কমিটিতে রয়েছে। একট হবে মাতারবাড়ীর কাছে, আরেকটি চট্টগ্রাম বন্দরের কাছেই। প্রতিটি এলাকায় বিদেশি উদ্যোক্তারা শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবেন।’’

সচিব আরও জানান, আনোয়ারায় চীনা একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চায়নিজ ইপিজেড (চীনা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল) সম্পর্কিত চুক্তি এগিয়ে নেওয়া হবে—এই বিষয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সভায় জ্বালানি ও কাঁচামাল ক্রয় সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। রাশিয়া ও সৌদি আরব থেকে মোট ৫৫ হাজার টন ইউরিয়া সার এবং সিশেলস দ্বীপ রাষ্ট্র থেকে ১৫ হাজার টন শিল্প কাঁচামাল আনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জুন ও জুলাই মাসের প্রথম অংশে তাত্ক্ষণিক প্রয়োজনে স্পট মার্কেট থেকে জ্বালানি কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ড. নাসিমুল গণি বলেন, ‘‘স্পট মার্কেটে দাম নির্ধারণে একটি জটিল পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়; সেখানে গত কয়েক মাসের মূল্যচিত্র বিবেচনায় এনে মধ্যম মূল্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমানে দাম কিছুটা কমার দিকে থাকায় আমরা জুন ও জুলাইটের প্রথম দিকের জরুরি চাহিদা মেটাতে স্পট মার্কেট থেকে দু’টি চালান আনার কথা বলেছি। কারণ জাহাজ এসে মাল নামাতে সময় লাগে; তাতে দেরি হলে দাম দ্রুত বাড়তে পারে।’’

জানা চাইলে সচিব প্রথম চার মাসে সরকারের কাজ সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন, ‘‘সরকার দ্রুত এগোচ্ছে। জনগণের জন্য কাজ করতে প্রশাসনকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’’

সংক্ষेपে, বৈঠকে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্টে দুইটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলের ঘোষণা, চীনা ইপিজেড বিষয়ে অগ্রগতি ও জরুরি সার-জ্বালানি আমদানি নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা সামনের সময়ে সরবরাহ সুরক্ষা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন