রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রথমে শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগে গুরুত্ব প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের উন্নয়ন এবং আত্মবিশ্বাসী একটি মানবিক প্রজন্ম গড়ে তোলার জন্য শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শুধু পাঠ্যক্রমের মধ্যেই নয়, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সর্বাঙ্গীণ বিকাশে গুরুত্ব দিতে হবে।

শনিবার (২০ জুন) অনুষ্ঠিত ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর মতে, এই ধরনের উদ্যোগ দেশের শিশুদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে সহায়ক, যার মাধ্যমে তারা শুধু শিক্ষায়ই নয়, খেলাধুলায়ও দক্ষতা অর্জন করবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেছন, এই টুর্নামেন্টটি একটি ইতিবাচক ও স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ, যা দেশের বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করছে। তিনি জানান, এই বছর সারাদেশে প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজারের বেশি খেলাধুলার প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ফুটবল প্রতিযোগিতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

উল্লেখ্য, সরকারের নির্দেশনায় ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখিত শিক্ষা ও খেলাধুলার আধুনিকায়ন কৌশল বাস্তবায়নে কাজ চলছে। এর অংশ হিসেবে চতুর্থ শ্রেণি থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্যক্রমে ফুটবল, ক্রিকেট, দাবা, কারাতে ও সাঁতার মতো খেলার অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়ছে।

প্রধানমন্ত্রী জোড়ালো হুঁশিয়ারি দেন, শুধুমাত্র তাত্ত্বিক শিক্ষার পরিবর্তে ব্যবহারিক ক্লাস ও মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করতে হবে। এর ফলে, মাদকাসক্তি, মোবাইল ফোন আসক্তি ও অন্যান্য সামাজিক সমস্যা কমে আসবে বলে তিনি আশার কথা ব্যক্ত করেন।

নেতৃত্বাধীন সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী, এই টুর্নামেন্টে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়—মোট ৬৫ হাজার ৫৬৯টি—আংশীন হবে। এতে দুই ধরনের দল অংশ নেবে—বালক ও বালিকা—যাতে প্রায় ৯৯ লাখের বেশি শিক্ষার্থী অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এই প্রতিযোগিতায় সব শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সমান সুযোগ পাচ্ছে, যা দেশের সবচেয়ে বড় ফুটবল কার্যক্রম হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, গত বছর সারাদেশে আড়াই লাখের বেশি খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উপসংহারে, তিনি বলেন যে, এই ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে দেশের শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক উভয় দিক থেকেই বিকশিত হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করে নিজেদের সামর্থ্য prove করছে। তিনি বক্তৃতায় দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শুভকামনা ও সাফল্য কামনা করেছেন।

পোস্টটি শেয়ার করুন