রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশীয় অংশীদার ছাড়াই আইসিডি পরিচালনা করবে বিদেশি প্রতিষ্ঠান

লজিস্টিকস ও বন্দর খাতে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো (আইসিডি) ও অফ-ডক পরিচালনায় বিদেশি মালিকানার ওপর দীর্ঘদিনের বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করেছে সরকার। প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ahora দেশীয় কোনো অংশীদার ছাড়াই এককভাবে বা শতভাগ মালিকানায় আইসিডি স্থাপন ও পরিচালনা করতে পারবেন।

এまで বিদেশি অপারেটরদের জন্য বাংলাদেশে লজিস্টিকস ব্যবসায় প্রবেশে স্থানীয় অংশীদারের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ বাধ্যতামূলক ছিল এবং বড় অংশ স্থানীয় মালিকদের হাতে রাখতে হতো। নতুন নীতিমালার ফলে ওই বাধা উঠে গেছে, যা বিদেশি কোম্পানিগুলোকে স্বাধীনভাবে কার্যক্রম চালানোর সুযোগ এনে দেবে এবং বাজারে নতুন প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করবে।

বর্তমানে বেসরকারি খাতে দেশে ২৪টি আইসিডি কার্যকর রয়েছে এবং আরও অন্তত তিনটি বড় আইসিডি নির্মাণাধীন। ডিপি ওয়ার্ল্ড, মেডলগ, রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল, এপিএম টার্মিনালস ও পিএসএ সিঙ্গাপুরসহ পরিচিত আন্তর্জাতিক অপারেটররা ইতোমধ্যে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত এই কোম্পানিগুলোকে স্বাধীনভাবে বিনিয়োগ ও পরিচালনা করতে আরও উৎসাহিত করবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরাসরি বিদেশি অংশগ্রহণ লজিস্টিকস খাতে আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত ডিজিটাল সিস্টেম ও বৈশ্বিক ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা নিয়ে আসবে। এতে পণ্য খালাস ও পরিবহনের গতি বেড়ে যাবে, কাস্টমস ক্লিয়ারিং আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ হবে এবং স্থানীয় কর্মীদের জন্য প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ বাড়বে। তবে এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে কেবল মালিকানার সীমা তুলে দেওয়াই যথেষ্ট নয়। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, দক্ষ মানবসম্পদ, শুল্ক নীতি ও ট্যারিফে স্থিতিশীলতা এবং বন্দরের পরিচালনায় দক্ষতার উন্নয়ন অপরিহার্য। দীর্ঘদিনের ম্যানুয়াল পদ্ধতির পরিবর্তে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটালাইজেশনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে ছিল এবং থাকবে।

বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের দিকে এগোচ্ছে; এমন সময়ে রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানো ও বাণিজ্য-সহায়ক আধুনিক অবকাঠামো তৈরিই সময়ের দাবি। নীতিগত স্থিতিশীলতা ও অনুকূল বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত থাকলে বিদেশি বিনিয়োগ দেশের লজিস্টিক খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সহায়ক হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিতে বড় সুফল বয়ে আনবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন