পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করতে সরকার পূর্ণদায়িত্বপ্রাপ্ত এবং ব্যাপকভাবে কাজ করছে। তিনি জানান, এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং নির্বাচনী ইশতেহারে এটিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
রোববার জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৯ (সরকারি দলের) সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের টেবিলে উপস্থাপিত লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান নদীচুক্তি এবং সমঝোতাগুলো পুনঃপর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সমঝোতা ও নতুন চুক্তি সম্পাদন করা হবে। পাশাপাশি যৌথ নদী কমিশনকে শক্তিশালী করে বাংলাদেশকে সেসব আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নিতে কার্যকরি ভূমিকা দেওয়া এবং অববাহিকাভুক্ত দেশগুলো—যথা ভারত, নেপাল, ভুটান ও চীন—এর সঙ্গে সমন্বিতভাবে নদীমুখ্য ব্যবস্থাপনা গ্রহণে কাজ করছে সরকার।
তিনি আরও বলেন, উজানের দেশগুলোতে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের ফলে শুকনো মৌসুমে বাংলাদেশে পানি প্রবাহ কমে যাচ্ছে। এছাড়া প্রাকৃতিক কারণে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উজানের পানি লভ্যতাও হ্রাস পাচ্ছে। এসব সমস্যার প্রভাব মোকাবেলায় বহুপাক্ষিক সমঝোতা ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা জরুরি বলে মন্ত্রী মনে করেন।
সরকারি উদ্যোগের মধ্যে আছে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা ত্বরান্বিত করা, প্রযুক্তিগত ও বৈজ্ঞানিক তথ্যভিত্তিক সমাধান অনুসন্ধান, এবং অভ্যন্তরীণ পানি ব্যবস্থাপনার নীতি শক্ত করা—যাতে নদীভিত্তিক জলসম্পদের ন্যায্য বণ্টন ও দেশের পানিকৌশল নিশ্চিত করা যায়। মন্ত্রী তার উত্তরে প্রাসঙ্গিক কাজগুলো প্রয়োজনীয় ত্বরান ও গুরুত্ব দিয়ে এগোচ্ছে বলেই উল্লেখ করেন।