শনিবার, ২৭শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মসজিদের লাউডস্পিকারে আজান নিষিদ্ধের পরিকল্পনা ঘোষণা ডেনমার্কে

ডেনমার্কের অভিবাসনমন্ত্রী মর্টেন বডসকভ ঘোষণা দিয়েছেন মসজিদের লাউডস্পিকারে আজান বা ইসলামিক ‘কল টু প্রেয়ার’ সম্প্রচার বন্ধ করার একটি নতুন পরিকল্পনা। কয়েকটি এলাকায় চলমান পরিস্থিতিকে ‘ইসলামাবাদের কোনো শহরতলীর’ সঙ্গে তুলনা করে তিনি এই কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন এবং বলছেন, নতুন সরকার এই নিষেধাজ্ঞা আরোপের আইনি বৈধতা পুনরায় খতিয়ে দেখবে।

মন্ত্রী বডসকভ বার্তা সংস্থা রিটজারের কাছে স্পষ্ট করে বলেন, “ডেনমার্কের ছাদগুলোর ওপর দিয়ে আজানের সুর ভেসে আসা উচিত নয়। ডেনমার্কে এর কোনো স্থান নেই। ডেনমার্কের রাস্তায় হাঁটার সময় কারো মনে এমন অনুভূতি হওয়া উচিত না যে তিনি কোনো ইসলামাবাদের শহরতলীতে এসে পড়েছেন।”

কোপেনহেগেনসহ বেশ কিছু বড় শহরে ইতোমধ্যে কড়া শব্দদূষণ নীতি থাকায় মিনারের লাউডস্পিকারে আজান দেওয়ার ওপর স্থানীয় আইনি বিধিনিষেধ রয়েছে। কিন্তু বডসকভের দাবি, দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ‘ইসলামীকরণ’ জনসম্মুখের উন্মুক্ত স্থানগুলোকে সংকুচিত করে দিচ্ছে, এবং তাই আরও কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন।

এটি নন-ইউরোপীয় ব্যাখ্যা নয়—অভিবাসন মন্ত্রীর হিসেবে এটি আজান নিষিদ্ধ করার আইনি কাঠামো তৈরির তৃতীয় দফার প্রচেষ্টা; এর আগের দুইবার ২০২০ এবং ২০২৫ সালে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট দলের পক্ষ থেকে অনুরূপ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তা সফল হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আজান পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ বড় ধরনের আইনি ও সাংবিধানিক বাধার মুখে পড়তে পারে। ডেনমার্কের সংবিধানে জনসমক্ষে ধর্মীয় উপাসনার অধিকার সুরক্ষিত থাকলেও, গণতন্ত্রবিরোধী প্রচারণা বা নিষিদ্ধ সংগঠনের ক্ষেত্রে কিছু ব্যতিক্রম আছে—তাই নিষেধাজ্ঞা আরোপের সময় এসব দিক বিবেচনায় রাখতে হবে।

ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোর মতো জার্মানি ও ব্রিটেনে আজান সম্প্রচারের ক্ষেত্রে শব্দের মাত্রা ও সময় ঠিক রেখে কড়া নিয়ম রয়েছে, যাতে প্রতিবেশীরা বিরক্ত না হন। ডেনমার্কে আনুমানিক ৬০ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় ২,৭০,০০০ মুসলিম নাগরিক বসবাস করেন এবং দেশজুড়ে প্রায় ১০০টি মসজিদ আছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনের নেতৃত্বে দেশটিতে সিদ্ধহস্ত অভিবাসন নীতি বজায় রয়েছে। বিতর্কিত ‘ঘেটো’ আইন ও আশ্রয়প্রার্থীদের সম্পদ ব্যবহার করে আবাসন খরচ আদায়ের মতো বিধান এই নীতির অংশ হিসেবেই দেখা হয়ে থাকে। তবে আজান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার প্রচেষ্টা বাস্তবায়ন করলেন কি না—এটি কোথাও কোথাও আইনগত লড়াই ও সাংবিধানিক পরীক্ষার মুখোমুখি হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

পোস্টটি শেয়ার করুন