ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমনের জন্য গৃহীত বিশেষ সমঝোতা স্মারকটি (এমওইউ) এখন গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলে দিচ্ছেন, যে উদ্যোগ অঞ্চলে সংঘাত কমিয়ে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় আলোচনার পথ খুলে দেওয়ার কথা—তাতে আবারও অনিশ্চয়তা নেমে এসেছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার ২৬ জুনের বিশেষ প্রতিবেদনে এই পরিস্থিতির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। কিংস কলেজ লন্ডনের প্রতিরক্ষা অধ্যয়নের প্রভাষক রব গেইস্ট পিনফোল্ড আল জাজিরাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করে বলেছেন, বর্তমান সমঝোতাটি এখন ‘গুরুতরভাবে ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে’ আছে।
পিনফোল্ড বলেন, এই সমঝোতাটি মূলত অন্তর্বর্তীকালীন একটি ব্যবস্থা—অর্থাৎ সাময়িক পদক্ষেপ হিসেবে নেওয়া হয়েছিল। এর দুইটি প্রধান লক্ষ্য ছিল: আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সেখানে উত্তেজনা কমানো এবং লেবাননে চলমান সংঘাতকে নিয়ন্ত্রণে আনা।
এছাড়া সমঝোতা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভবিষ্যতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও তেহরানের আঞ্চলিক মিত্রগোষ্ঠীর প্রতি সহযোগিতা সম্পর্কিত সংবেদনশীল বিষয়গুলোর উপর বড় মাত্রায় আলোচনা চালানোর সুযোগ তৈরি করাও লক্ষ্য ছিল।
তবে পিনফোল্ডের ভাষায়, সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি আবার আগের অনিশ্চিত ও অস্থিতিশীল পর্যায়ে ফিরে এসেছে। লেবাননে রক্তক্ষয়ী সংঘাতে এখনো স্থায়ী বা দীর্ঘমেয়াদি কোনো সমাধানের লক্ষণ মেলছে না এবং হরমুজপ্রণালী ঘিরে দুই পক্ষের সামরিক উত্তেজনা ঘটা করে বজায় রয়েছে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মহল আশা করেছিল এই অচলাবস্থার মধ্যেই থেকে দুদেশ হয়ত শান্তি ও স্থিতিশীলতার পথে এগোতে পারবে—কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি। পিনফোল্ডের নিরীক্ষায় যদি আঞ্চলিক উত্তেজনা এভাবে অব্যাহত থাকে, তাহলে এই সমঝোতাটি কার্যকর রাখা সম্ভব হবে না এবং শেষপর্যন্ত এটি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়তে পারে।