মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রংপুর-৬ এমপির বরাদ্দকৃত প্রকল্পে সভাপতি—ভাগনে ও ভগ্নিপতি

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার পুক্তোলী উপজেলা’র বিভিন্ন প্রকল্পে এমপির স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। জামায়াত’র সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমীন (রংপুর-৬) চলতি অর্থবছরে টেস্ট রিলিফ (টিআর), কাবিটার ও কাবিখার সরকারি বিশেষ বরাদ্দে নিজেদের নিকটাত্মীয় এবং সম্পর্কিতদের রাখা হয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ অর্থবছরে এমপি টিআর হিসেবে ৩০ লক্ষ টাকা, কাবিটার থেকে ২৫ লক্ষ টাকা এবং কাবিখার জন্য ৪০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ পেয়েছেন। তিনি তাঁর সংসদীয় আসনের বিভিন্ন এলাকায় মোট ৩০টি প্রকল্প অনুকূলে ভাঙা-বাঁট করে দাখিল করেন—টিআরের ১৪টি, কাবিটার ১১টি ও কাবিখার ৫টি।

সার্বক্ষণিক স্থলপরিদর্শনে দেখা গেছে, উপজেলার ৯ নং সদর ইউনিয়নের তুলারামপুর গ্রামে এমপির বিশেষ বরাদ্দের অন্তত দুটি প্রকল্প কাজরত রয়েছে। কাবিখা প্রকল্পের ১০ টন খাদ্যশস্য বরাদ্দের মধ্যে ওই গ্রামে রয়েছে ওয়াক্তিয়া নামাজঘর উন্নয়ন ও আশপাশের মাঠে মাটি ভরাটকরণ কাজ। এই প্রকল্পের সভাপতি করা হয়েছে ইয়াকুব আলীকে—যিনি এমপির চাচাতো বোনের স্বামী হিসাবে পরিচিত।

আরেকটি প্রকল্প একই গ্রামের ইয়াকুব আলীর বাড়ি থেকে মুশফিকের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তাসলিংকরণ, ইয়াকুবের পুকুরপাড়ে গাইড ওয়াল নির্মাণ ও মাটি ভরাটকরণ সংক্রান্ত। এ প্রকল্পের সভাপতি করা হয়েছে ইয়াকুব আলীর ছেলে—সালমান শরিফ শাওনকে। ওই দুই প্রকল্পের সভাপতি পিতা ও পুত্র; স্থানীয়রা বলছেন তারা দুজনই এমপির ভাগনে-ভগ্নিপতির সম্পর্কের শাখায় পড়েন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক প্রকল্পেই করা হয়েছে পরিবারের অন্য সদস্য বা দলীয় নেতা-কর্মীদের নাম সভাপতি হিসেবে—যার ফলে প্রকল্পের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তুলারামপুর গ্রামের বাসিন্দা মুকুল মিয়া বলেন, ‘ওয়াক্তিয়া ঘরের কাজের জন্য একাধিক প্রকল্প দেওয়া হয়েছে, কিন্তু এমপি নিজ পরিবারের লোকজনকে সভাপতিত্ব দিলে প্রকৃত কাজটি কি পরিমাণ ও সঠিকভাবে হবে তা যুক্তরাষ্ট্রে সন্দেহ রয়েছে।’

অন্য এক বাসিন্দা মঞ্জু মিয়া ক্ষোভ করে বলেন, ‘গ্রামে পুরনো জামে মসজিদ আছে, সেখানে নিয়মিত শতাধিক মানুষ নামাজ পড়ে। মসজিদের জন্য বরাদ্দ চেয়েও তা না দিয়ে কেন আত্মীয়দের প্রকল্প দেওয়া হচ্ছে—এই নিয়েই আমরা ক্ষুব্ধ।’

প্রকল্প সভাপতি ইয়াকুব আলী বলেন, ‘প্রকল্পে কত টাকা বরাদ্দ আছে বা কী কাজ করা হবে সে বিষয়ে আমি তেমন জানি না। অফিস থেকে কাজ করতে বলা হয়েছে, তাই কাজ করছি।’ তিনি অন্য বিশদ মন্তব্য করতে চাননি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আব্দুল আজিজ জানান, ‘যদি অভিযোগ আসে, আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব। প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘কোনো প্রকল্পে কাজ না করে টাকা তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষী কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘এই বিষয়ে পরে কথা হবে।’ এ কথা বলেই তিনি ফোন কেটে দেন—ফলে বিস্তারিত মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের ক্ষোভ এবং প্রশাসনের তদন্তের প্রতিশ্রূতির মাঝেই এখন প্রশ্নটা উঁকি দিচ্ছে—সরকারি বরাদ্দের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে কীভাবে। তদন্ত হলে প্রকল্পগুলোতে স্বজনপ্রীতি প্রমাণিত হয় কি না, সেটাই এখন দেখতে হবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন