মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

করমুক্ত আয়সীমা বাড়াল, ব্যাংক হিসাব খোলায় টিআইএন লাগছে না

জাতীয় সংসদে ২০২৬ অর্থবিল পাসের মাধ্যমে কর্পোরেট, ব্যাংকিং এবং কর নীতি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই বিলের ফলে ব্যক্তির করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো হয়েছে ৪ লাখ টাকা, যা আগে ছিল কম। পাশাপাশি, ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য এখন থেকে টিআইএন নম্বর প্রয়োজন হবে না, যা সাধারণ মানুষের জন্য অনেক সহজতর করে তুলবে।

বিলটি পাসের दौरान সংসদে জনমত যাচাইসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি সংসদে উপস্থাপন করেন এবং কণ্ঠভোটে তা জনপ্রিয়তার সঙ্গে পাস হয়। এই বিলের পেছনে সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন রয়েছে, যার মাধ্যমে দেশকে সংকটপূর্ণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের চেষ্টা চলছে।

বিলের পাসের পর অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের অর্থনীতি দুর্বলতা থাকলেও টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। তারা বিশ্বাস করেন, কার্যকর নেতৃত্ব, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান ও জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। তাঁরা এখন থেকে রির্ভরশীলতা কমিয়ে বিনিয়োগ আধারিত অর্থনীতির দিকে উঠার পরিকল্পনা নিয়েছেন। এ জন্য বেসরকারি উদ্যোগ, নতুন উদ্ভাবন ও কর্মসংস্থানকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।

অর্থমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশ এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশ রাখার লক্ষ্য রয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য সরকারের নানা কৌশল, যেমন করোহার সম্প্রসারণ, কর নীতির স্বচ্ছতা, এবং কর ফাঁকি রোধের জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পূর্ববর্তী সরকারের অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণের সমালোচনাও করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের মোট ঋণের পরিমাণ প্রায় ২১ লাখ কোটি টাকার বেশি, যার মধ্যে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ রয়েছে। এই ঋণ পরিমাণ কমাতে ব্যাংকঋণ কমানো, স্টেকহোল্ডারদের সরাসরি বাজারে আনা এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে নানা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আর্থিক অপরাধের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান রয়েছে। পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে বিভিন্ন দেশে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স চুক্তি স্বাক্ষর এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ঋণগ্রহীতাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ ও সম্পদ পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া চলছে। এইসব উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি সচল ও সুদৃঢ় করার লক্ষ্য রয়েছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন