পবিত্র রমজান ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের ঐতিহাসিক আল আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে জোরপূর্বক প্রবেশ করেছে একদল ইসরায়েলি বসতি-স্থাপনকারী। জেরুজালেম গভর্নরেট জানান, বুধবার (১ জুলাই) সকালে কয়েকটি কট্টরপন্থী বসতি-স্থাপনকারী দলবদ্ধভাবে মসজিদের চত্বর ও চারপাশের আঙিনায় ঢুকেছে।
ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী তাদের ঘিরে রেখেছে এবং বাস্তিগত নিরাপত্তা দেয়ার সময় এই প্রবেশকালে তারা প্রাঙ্গণে উসকানিমূলক টহল ও নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পরিচালনা করে। জেরুজালেম কর্তৃপক্ষের বরাতে জানানো হয়েছে, এসব কর্মকাণ্ড মুসলিম উপাসনায় বিঘ্ন সৃষ্টির মতো স্বরূপ ধারণ করেছে এবং তা নিয়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মসজিদটিকে মুসলিমদের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান বলা হয়; তাই এখানে এমন অনুপ্রবেশ ও উসকানি নতুন উত্তেজনার সূত্রপাত করতে পারে বলে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। ঘটনার সময় স্থানীয় সাধারণ ফিলিস্তিনিরাও তাদের উপাসনে ব্যাঘাতের মুখোমুখি হন বলে খবর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে একই দিন ইসরায়েলের এক শীর্ষ মন্ত্রী গাজার ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন। ইসরায়েলের জ্বালানি ও অবকাঠামো বিষয়ক মন্ত্রী এলি কোহেন গ্যালেই ইসরায়েল রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, গাজা উপত্যকার প্রশাসনিক ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা তাদের অটল।
মন্ত্রী কোহেনের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই মাস আগে গাজার ৫৩ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল, যা এক মাসে বাড়ে প্রায় ৬০ শতাংশে এবং বর্তমানে প্রায় ৭০ শতাংশ ভূখণ্ড সরাসরি ইসরায়েলের কব্জায় রয়েছে—এই হিসাব তাদের সামরিক অগ্রগতিকে তুলে ধরে। তিনি তেল আবিবের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, ইসরায়েল গাজায় হামাসকে আর কোনওভাবে মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার সুযোগ দেবে না।
কোহেন আরও জানান, হামাসের রাজনৈতিক ও সামরিক সংগঠনকে সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত করাই মূল লক্ষ্য, এজন্য তারা ধারাবাহিক অভিযান ও কৌশলগত অগ্রগতি বজায় রাখছে। এই ঘোষণার প্রেক্ষাপটে গাজা ও জেরুজালেমসংশ্লিষ্ট উত্তেজনা ভবিষ্যতে আরও তীব্র হতে পারে—এমন আশঙ্কা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের রয়েছে।