রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ প্রণালী নিয়ে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সকে ইরানের সতর্কবার্তা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তির পরও হরমুজ প্রণালীর নিয়ে উত্তেজনা থামেনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স যদি এই সংবেদনশীল নৌপথে সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে, তাতে বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।

ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য বলেছে যে তারা হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য প্রয়োজনে সামরিক টহল যোগাতে প্রস্তুত। এ ধরনের বার্তার প্রেক্ষিতে শনিবার ইরান এসব কোনো সামরিক রূপ নেওয়ার চেষ্টা করলে তা বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে।

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদী এক্স (তৎকালীন টুইটার) পোস্টে বলেছেন, ‘ইরান—a দায়িত্বশীল শক্তি এবং প্রণালীর নিরাপত্তার রক্ষক হিসেবে—এই নৌপথে কোনো সামরিক তৎপরতা সহ্য করবে না। হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা উপকূলীয় দেশগুলোর ওপর নির্ভরশীল।’

সিএনএন জানিয়েছে, উভয় পাশেই নৌচলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক আইন রক্ষা করার উদ্যোগ জোরদার হয়েছে। এ লক্ষ্যেই গত এপ্রিলে ৫১টি দেশের অংশগ্রহণে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছিল।

এদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর এক বিবৃতি যে নিয়ে বিবাদ দেখা দিয়েছে—ম্যাক্রোঁ বলেছেন, ‘‘ফ্রান্স, ওমান ও অন্যান্য দেশ প্রণালী থেকে মাইন অপসারণে সহায়তা করবে।’ ’’ ইরানের পক্ষ থেকে গরিবাবাদী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, নৌপথ থেকে মাইন অপসারণের কাজ একমাত্র ইরানই করবে।

হরমুজ ইস্যুর পাশাপাশি ইরানের ভেতরে নিরাপত্তা ঝুঁকিও বাড়েছে। শায়খ খামেনির দাফন অনুষ্ঠানের আগেই ইসলামী রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সম্ভাব্য আঘাতকারীদের নেওয়া ‘কঠোর প্রতিক্রিয়া’ দিয়ে সতর্ক করেছে। তারা বলেছে, কোনো ভুল করলে তার জবাব আগের চেয়ে কঠোর হবে এবং তেমন প্রতিক্রিয়া সংঘটিত হলে তা ওই আক্রমণকারীদের ইতিহাসে চিরস্থায়ী লজ্জার কারণ হবে।

এর আগে ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেটে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ইরানের শীর্ষ নেতা মোজতবা খামেনিকে সম্ভাব্য নিশানায় আনার কথাও বলেছেন—যার পরিপ্রেক্ষিতেই আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

ইরান দাফন অনুষ্ঠানের সময় সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। ওই অনুষ্ঠানে লাখ লাখ মানুষ এবং দেশি-বিদেশি অতিথির উপস্থিতির সম্ভাবনা থাকায় যেকোনো হামলা মলাটে বিপুল প্রাণহানি ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে উর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তারা গুপ্তহত্যার ঝুঁকিতেও পড়তে পারেন।

রয়টার্সের একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, তেহরানের রাস্তায় নিরাপত্তাকর্মীরা টহল দিচ্ছেন; আরও বলা হয়েছে, দাফন অনুষ্ঠান শুরুর আগে তেহরানের আকাশসীমা সোমবার পুরোপুরি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরান।

পরিস্থিতি সংবেদনশীল এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল। হরমুজ প্রণালি ও উচ্চস্তরের সরকারি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে অঞ্চলটি এখন তীব্র নজরদারির মধ্যে রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা আশঙ্কা করছেন যে সামরিক বা গোপন হামলার সম্ভাব্যতা বিশাল জনগণ ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।

পোস্টটি শেয়ার করুন