সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউরোজোনে জুনে মূল্যস্ফীতি নেমে ২.৮%—বাজারে স্বস্তির লক্ষণ

ইউরোজোনে জুনে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি কমে ২.৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যা নীতিনির্ধাতা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তির সৃষ্টি করেছে। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন ও ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসের ৩.২ শতাংশ থেকে জুনে মূল্যস্ফীতি আরও নিম্নমুখী হয়েছে এবং বিশ্লেষকদের আগের ৩ শতাংশের পূর্বাভাস ছাড়িয়ে গেছে। তবু এটি টানা চতুর্থ মাস ইসিবির লক্ষ্যমাত্রার ওপরেই রয়েছে।

মূল্যস্ফীতির এই পতনের মূল চালক হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে আসাকে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি মেয়াদ বাড়ানো এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় সচল করার চুক্তির ফলে জ্বালানি বাজারে চাপ লঘু হয়েছে। এসময় জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের ওঠানামা বাদ দিয়ে হিসাব করা কোর ইনফ্লেশন জুনে ২.৪ শতাংশে নেমে এসেছে, যা মে মাসে ছিল ২.৬ শতাংশ। সেবা খাতের মূল্যস্ফীতিও ৩.৫ শতাংশ থেকে কমে ৩.২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

মূল্যস্ফীতি শান্ত হওয়ায় বাজারে ইতিবাচক সাড়া দেখা গেলেও ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংয় (ইসিবি) সতর্ক অবস্থান জানিয়েছে। ইসিবি গত মাসে সুদহার ০.২৫ শতাংশ বাড়িয়ে ২.২৫ শতাংশে উন্নীত করেছিল, যা বাজারে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার উদ্দেশ্যপ্রসূত ছিল। ইসিবি প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্দে বার্ষিক ফোরামে সতর্ক আভাস দিয়েছেন যে বর্তমান পরিস্থিতিতে আগের জ্বালানি সংকটের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন নাও হতে পারে।

তবে বিশ্লেষকরা আশার সঙ্গে সতর্কতাও প্রকাশ করছেন। কমার্সব্যাংকের অর্থনীতিবিদরা বলছেন, যদি ব্যবসায়ীরা জ্বালানির খরচ গ্রাহকদের ওপর স্থানান্তর করে, তাহলে বছরের বাকি সময়ে মূল্যস্ফীতি আবার ৩ শতাংশের কাছাকাছি উঠতে পারে। এমনটি ঘটলে বাজারে আলোচনা আছে যে ইসিবি সেপ্টেম্বরে আরও এক দফা সুদহার বাড়িয়ে ২.৫ শতাংশ করতে পারে।

বর্তমানে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা ও বিনিয়োগকারীরা ইসিবির পরবর্তী পদক্ষেপ ও জ্বালানি বাজারের চলাফেরার দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন, কারণ এগুলোই আগামী মাসগুলিতে মূল্যস্ফীতার দিশা নির্ধারণ করবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন