বিশ্বকাপের স্বপ্ন ভেঙে, আন্তর্জাতিক ফুটবলে বিদায় ঘোষণা করলেন নেইমার জুনিয়র। নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে ব্রাজিলের শেষ-১৬ থেকে বিদায় এবং সেই ম্যাচের পর গ্লোভো টিভিকে দেওয়া আবেগঘন ভাষণ—সব মিলিয়ে সেলেসাওদের জার্সির সঙ্গে নেইমারের সম্পর্কের এক দীর্ঘ অধ্যায় নিষ্প্রয়োজনীয়ভাবে শেষ হলো।
অদ্ভুত কাকতালীয়তা সহ: ১৬ বছর আগে মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই তিনি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন, আর আজ একই মাঠেই শেষ হলো সেই বর্ণিল পথচলার একটি অধ্যায়। ম্যাচের যোগ করা সময়ে পান করা পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান ছোটাতে সক্ষম হলেও (২-১), সেটি দলের পরাজয় উল্টে দিতে যথেষ্ট হয়নি।
ম্যাচ শেষে টিভি সাক্ষাৎকারে আবেগে ভেঙে পড়েন নেইমার। তিনি বলেন যে তিনি অনেক চেষ্টা করেছেন এবং বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন আর পূরণ হলো না—এবং এখানেই তার শুরু হয়েছিল, এখানেই শেষও হলো। সরাসরি অবসরের কথা বললেও তাঁর মন্তব্য এবং ইতালিয়ান সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানোর ‘ব্রেকিং নিউজ’ ইঙ্গিত করে যে সামনে থেকে আর সেলেসাওদের জার্সি পড়বেন না এই স্টাইলিস্ট উইঙ্গারকে।
নেইমারের এই বিদায় ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের জন্য এক যুগের সমাপ্তি হিসেবে লক্ষ করা হচ্ছে। ১৯৯০ সালের পর থেকে এটিকে ব্রাজিলের একটি হতাশাজনক বিশ্বকাপ পারফরম্যান্স হিসেবে দেখা হচ্ছে, এবং এই পরাজয় পেছনের সফল কিছুর মাঝেই এক নতুন শূন্যতার জানান দিয়েছে।
ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যানেও নেইমার অনবদ্য এক নাম: ১৬ বছরের আন্তর্জাতিক সফরে তিনি ব্রাজিলের হয়ে খেলেছেন প্রায় ১৩০টি ম্যাচে, করেছেন ৮০টি গোল—যা ব্রাজিলের ইতিহাসের শীর্ষ গোলদাতাদের কাতারেও দেখায় তার স্থান—এবং আছে ৫৮টি অ্যাসিস্ট। ২০১৩ সালের ফিফা কনফেডারেশনস কাপ এবং ২০১৬ রিও অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জয় তাঁর সংগ্রহে থাকলেও চারটি বিশ্বকাপে সোনালি ট্রফি ছুঁতে পারেননি তিনি।
মেটলাইফের উপরিভাগে একসময়ের তরুণ প্রতিভা আজ ৩৪ বছর বয়সে বিদায় নিলেন—এক বুক আশা, অনুপ্রেরণা এবং কিছুটা অপ্রাপ্তি নিয়ে। সমর্থকদের হতাশা গভীর; তবু নেইমারের চমকপ্রদ ড্রীবল, দৃষ্টিনন্দন গোল আর বড় ময়দানে প্রদর্শিত নেতৃত্বের মূহুর্তগুলো ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে স্থায়ী হবে। এই বিদায় ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে এক যুগ শেষ করেছে—এবং নেইমারের কীর্তিই আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে থাকবে।