বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ উত্তেজনায় তেল ও গ্যাসের দাম আবার বাড়ল

হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর ও ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে মূল্য উল্লম্ফ দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার ওমান উপকূলের কাছে একটি এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) ট্যাংকারসহ বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পরই তেল ও গ্যাসের দাম দ্রুত বাড়ে।

আল জাজিরার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ইউরোপীয় বেন্চমার্কার প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম এক ধাক্কায় ৪.৫ শতাংশের বেশি বাড়ে এবং প্রতি মেগাওয়াট-ঘন্টা ৪৬ ইউরোতে (প্রায় ৫২.৫ ডলার) পৌঁছায়। তেলের বাজারেও চড়া ঢেউ ওঠে—ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেলপ্রতি ১.৪২ শতাংশ বেরে ৭৩.০১ ডলারে পৌঁছায়, যা এক সপ্তাহে সর্বোচ্চ। অন্যদিকে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১.৩৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৬৯.৪৮ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলেছে, ওমান উপকূলের কাছে ইরানি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী অন্তত দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে; এগুলোর মধ্যে একটি এলএনজি ট্যাংকার। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন দাবি করেছে, জাহাজটির সতর্কবার্তা উপেক্ষা করার কারণে সেটি হামলার মুখে পড়েছে। হামলার ফলে জাহাজগুলোতে ক্ষতি হয়, তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর জানা যায়নি।

হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্ব তেল ও এলএনজির প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন হয়—এ কারণে এই অঞ্চলে সামান্য অস্থিরতাও বৈশ্বিক সরবরাহ ও মূল্যকে তাড়া দিতে পারে। কিছু জাপানি সুপারট্যাঙ্কার আটকে থাকার পর এই সপ্তাহে প্রণালী দিয়ে চলাচল শুরু করলেও বাজারের শঙ্কা কমেনি। বিশ্লেষকদের মতে, যদি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে জ্বালানি সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে।

রাজনৈতিক উত্তেজনা মূল্য বৃদ্ধির একটি বড় কারণ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘Finish the job’ মন্তব্যের পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও জানিয়ে দিয়েছেন যে, আমেরিকার হুমকি অব্যাহত থাকলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না। বাজার বিশ্লেষক ওলে হ্যানসেন সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি শান্ত না হলে তেলের দাম সহজে ব্যারেলপ্রতি ৭৫–৮০ ডলারের ঘাটতে পারে।

আরও উদ্বেগজনক হলো যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসা—প্রায় ৩১৯.৫ মিলিয়ন ব্যারেল, যা বিগত ৪৩ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। সরবরাহ ঝুঁকি কমাতে সৌদি আরব হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে লোহিত সাগর উপকূল পর্যন্ত পাইপলাইন সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে। অন্যদিকে জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়াতে জার্মানি একটি বড় রাষ্ট্রীয় গ্যাস রিজার্ভ গঠনের ঘোষণা দিয়েছে।

সংকট চলতে থাকলে কোম্পানি, দেশ ও ভোক্তাদের জন্য অনিশ্চয়তা বাড়বে এবং বাজারে আরও পতিতুল্য ওঠানামা দেখা দিতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির সরবরাহ ও নীতিনির্ধারকদের প্রতিক্রিয়ার ওপরও এখন লক্ষ্মণীয় নজর রাখছে বিনিয়োগকারী ও গ্রাহকরা।

পোস্টটি শেয়ার করুন