বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: দিল্লিতে আওয়ামী লীগের দাফন, তারা আর রাজনীতি করতে পারবে না

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দিল্লিতে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পতন সম্পন্ন হয়ে গেছে — দাফন হয়ে গেছে; তারা আর বাংলাদেশে রাজনীতি করতে সক্ষম হবে না। তিনি বলেন, শিগগিরই দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার হবে।

শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে আয়োজিত একটি স্মরণসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে এসেছি যে রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের বিচার হওয়া উচিত এবং এখন এ সংক্রান্ত তদন্ত চলছে। ‘‘ইনশাআল্লাহ, খুব শিগগিরই রাজনৈতিক দল হিসেবে সেই দলকে বিচারের কাঠগড়ায় আনা হবে,’’ তিনি অভিমত প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ সংশোধন, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও আইসিটি অ্যাক্টের আওতায় রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের বিচার করার আইনি সুযোগ রয়েছে।

আন্দোলনের ভেতরের কিছু বিষয় তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তিনি এবং তারেক রহমান—দুজনেই তখন নির্বাসিত ছিলেন। ‘‘আল্লাহর দয়ায়, যদি আমরা নির্বাসিত না থাকতাম, হয়তো এই জুলাইয়ের মতো অভ্যুত্থান এত সফলভাবে শেষ করা যেত না,’’ তিনি বলেন। তিনি দাবি করেন যে বৈঠক ও সমন্বয়ের মাধ্যমে নেতাকর্মীদের সংগঠিত করেই আন্দোলনকে অরাজনৈতিক পরিচয়ে এগিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, শুরুতে অনেকেই দাবি করতেন এ আন্দোলনের কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই, তাদের দাবি ছিল কেবল কোটা বৈষম্য দূর করাটা। কিন্তু আন্দোলন বিকশিত হয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনে পরিণত হয়, যা শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছায়। ‘‘আমরা রাজনৈতিকভাবে সমগ্র বাংলাদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে কোটি কোটি শহীদের রক্তের স্রোতের মধ্য দিয়ে আজকের দিনটি টপিয়ে এনেছি,’’ তিনি জানান।

তিনি আরও দাবি করেন, ৫ আগস্টের আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের মধ্যে প্রায় সাড়ে চার শতাধিক ছিলেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনাও করেন। বলেন, ‘‘এত বড় গণহত্যার পরও (হত্যাকারীরা) কোনো অনুশোচনা করছেন না; তারা জুলাই যোদ্ধাদের অপরাধী আখ্যা দিচ্ছে এবং প্রবাস থেকে আন্দোলনটিকে ‘জঙ্গি তকমা’ দেওয়ার চেষ্টা করছে।’’

স্মরণসভায় তিনি হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রমের অগ্রগতিরও খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি জানান, ইতিমধ্যে পাঁচটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় হয়েছে; ২৭টি মামলা বিচারাধীন এবং আরও ৭২টি মামলা তদন্তের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ড মামলায় দুইজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, এবং অন্য মামলাগুলোতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের সাজা ও ফাঁসির আদেশের কথা তিনি উল্লেখ করেন। তৎকালীন আইজিপি মামুন ও আশুলিয়া-রামপুরার হত্যা মামলার আসামিদেরও বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ডিত করা হয়েছে; কিছু ক্ষেত্রে আপিলের প্রস্তুতি চলছে, যেমন হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের সাজার বিরুদ্ধে বাদীপক্ষ আপিল নেবেন বলে তিনি জানান।

সভায় তিনি সমাপ্তিতে সতর্ক বলেন, ‘‘জুলাইয়ের চেতনা নিয়ে যেন কেউ ব্যবসা না করে। যারা রাজনৈতিক সুবিধার জন্য চেতনা বিক্রি করছেন, তাদের পরিণতি ইতিহাসের বিচারে দেখাতে হবে।’’ তিনি ঐতিহাসিকভাবে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ভাবানো প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন, যাতে ভবিষ্যত সরকাররা স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী আচরণ পুনরাবৃত্তি না করে।

পোস্টটি শেয়ার করুন